জয়পুরহাটে ডিসি লেকে শাস্ত্রীয় সংগীতের মূর্ছনা
রাতের নির্জনতায় খোলা আকাশের নিচে বসে রাগভৈরবী, মালকোস, বিলাবোল অথবা কলাবতী রাগের মনোমুগ্ধকর সুরের মূর্ছনায় কার না হৃদয় ছুঁয়ে যায়? পরম উৎকর্ষের এ সংগীতের মানে যেন অস্পষ্ট আধো আলো-অন্ধকারে পরম একাকিত্বে নিজেকে হারিয়ে খোঁজা।
জয়পুরহাটে ডিসি লেকের পাড়ে গত রোববার রাতে সংগীতপ্রেমী শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল শাস্ত্রীয় সংগীতের এমনই এক চমৎকার পরিবেশনা ‘রাগ লহরি’।
শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চাকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে জয়পুরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির শাস্ত্রীয় সংগীত বিভাগের আয়োজনে এই রাগ সংগীতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুর রহিম। এ ছাড়া জেলার গুণীজন এবং সাধারণ মানুষও এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।
শাস্ত্রীয় সংগীতের এ আয়োজনকে ঘিরে সংগীতবোদ্ধা গুণীজনরা বলেন, প্রতিটি রাগের সঙ্গে সময় ও স্থানের একটা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। রাতের শান্ত-নির্জন লেকের পাড়ে এ রাগসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সংগীতের সঙ্গে প্রকৃতি ও সময়ের সম্পর্কের সম্মিলন ঘটানোর চেষ্টা করেন আয়োজকরা। তাই তো মনোরম লেকের মাঝখানের দ্বীপে প্রদীপ আর খড়িতে আগুন জ্বালিয়ে তাঁবুতে বসে জলসার মতো এ আয়োজন মুগ্ধ করেছিল অনেককেই।
অনুজ্জ্বল অথচ আকর্ষণীয় মঞ্চে বসে শিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রীদের রাগসংগীত পরিবেশনা লেকের পাড়ে বসে উপভোগ করার অভিজ্ঞতা ছিল অনন্য। আর এই আয়োজন নিঃসন্দেহে শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করবে বলে মত প্রকাশ করেছেন জেলার সংগীতবোদ্ধা গুণীজন।
চমৎকার এ অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জয়পুরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রধান সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সরকার। অনুষ্ঠানে রাগসংগীত পরিবেশন করেন শাস্ত্রীয় সংগীত বিভাগের প্রশিক্ষণার্থী ইশতিয়া শাহানামা, নিশাত, নম্রতা, লুনা, সৌমিক ও কৌশিক। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ওস্তাদ রুহুল কুদ্দুস ও কৌশিক আহমেদ।

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট