বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
মাদারীপুরের চারটি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৮১ লাখ টাকার পুনর্বাসন ও প্রণোদনা প্রকল্পে কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন, কৃষি উপকরণ ক্রয় ও বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তালিকায় থাকা কৃষকদের অনেকই জানে না, সরকার তাদের কৃষি ফসল বন্যা কবলিত হওয়ায় পুর্নবাসন ও প্রণোদনা উপকরণ দিচ্ছে। এমন কি যেসব উপজেলায় চলতি বছর বন্যা হয়নি, সেসব উপজেলাতেও কৃষকদের একটি তালিকা তৈরি করে তাদের কাগজে কলমে উপকরণ বিতরণ দেখানো হয়েছে।
কৃষকরা বলছে, যেসব বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকদের এই উপকরণ দেওয়া হয়েছে, তাদের তালিকাগুলো ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও চেয়ারম্যানরা তাদের পছন্দ মতো কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে কোথাও কোথাও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বঞ্চিত হয়েছে। অনেক কৃষককের নাম দিয়ে ভুয়া বিল ভাউচার করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন কর্মকর্তারা।
তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্পের অধীনে সব টাকাই উপকরণ ক্রয় কমিটির মাধ্যমে ক্রয় করে তা বিতরণ করা হয়েছে।
শিবচর উপজেলার উত্তর বহেরাতলা ইউনিয়নের কৃষক আবুল ব্যাপারী বলেন, ‘আমাগো ইউনিয়নে তো এই বছর বন্যা অয় নাই। তয় এই ইউনিয়নের কৃষকদের সরকার ভর্তুকি দেবে কেন? দিলেও আমি তো পাই নাই।’
ভিন্ন ধরনের কথা বললেন চরজানাজাত ইউনিয়নের আবদুল করিম। তিনি বললেন, ‘আমাগো মেম্বাররে তো আমরা ভোট দেই নাই। এই অভিযোগ নিয়ে সে আমাগো নাম লিস্টে তো উঠায় নাই। তয় হুনছি, চেয়ারম্যান বলছে, আমাগোও নাকি সরকার ভর্তুকি দেবে।’
এভাবেই একাধিক কৃষক সরকারি ভর্তুকি প্রদান ও তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম পাওয়া গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর, শিবচর, রাজৈর ও কালকিনি উপজেলায় ২০১৬-২০১৭ সালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ৮১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টাকা সরকারের ভর্তুকি হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ করা হয়। যার মধ্যে মাদারীপুর সদরে ২৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮১০ টাকা, রাজৈরে ১৯ লাখ ১২ হাজার ৪৯০ টাকা, শিবচরে ১৩ লাখ ৮ হাজার ৮৫ টাকা ও কালকিনি উপজেলায় ২৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫১৫ টাকা বরাদ্দ করা হয়।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুনর্বাসন ও প্রণোদনা প্রদান কমিটির সদস্য সচিব আবদুল কাদের বলেন, ‘এই প্রকল্পে উপকরণ কেনায় কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বাররা যদি স্বজনপ্রীতি কিংবা রাজনৈতিকভাবে পছন্দের কৃষকদের তালিকা দেন, তাহলে আমরা কী করতে পারি। আমাদের তো করার কিছু নেই।’
মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও প্রণোদনা বরাদ্দের জন্য প্রত্যেকটি উপজেলার ইউএনওকে সভাপতি ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে একটি ক্রয় কমিটি করা আছে। তারাই মূলত এই প্রকল্পের আওতাধীন কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেছেন।
কৃষকদের নামের তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা দিয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়নের সদস্য ও চেয়ারম্যানরা। তাদের দেওয়া তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যেই প্রণোদনা বিতরণ করা হয়েছে। এখানে আমি অনিয়মের কিছু দেখি না।’

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর