মাদারীপুরে খোলা আকাশের নিচে চলছে শিশুদের পাঠদান
মাদারীপুর সদর উপজেলার জাফরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে চলছে শিশুদের পাঠদান। তবে বৈরী আবহাওয়ার সময় বন্ধ থাকে শিশুদের পাঠদান। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠ কার্যক্রম। সেই সঙ্গে স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার ১৫ নম্বর জাফরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে একটি মাত্র ভবন রয়েছে। এই ভবনের তিনটি শ্রেণিকক্ষে কোনোভাবে চলত শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম। পাঁচ বছর আগে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তরা খসে পড়ছে। দুই বছর আগে ভবনটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকেই নতুন ভবনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দৌঁড়ঝাপ করেও কোনো লাভ হয়নি। অথচ জেলা শিক্ষা অফিসের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের তালিকার প্রথম দিকেই রয়েছে স্কুলটির নাম।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভবন চেয়ে গত বছরের ৫ অক্টোবর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। এত কিছুর পরেও ভবন হয়নি। বর্তমানে একটি ছাপড়া ঘরেই চলছে শিশুদের পাঠদান। কিন্তু সেই ঘরটিও শিশুদের পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই খোলা আকাশের নিচেই চলে শিশুদের পাঠদান। বিদ্যালয়টিতে আগে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল সাড়ে ৩০০। বর্তমানে এ সংখ্যা ২৭৫। ভবনের এমন জীর্ণদশার কারণে আতঙ্কে অনেক ছাত্রছাত্রীই ক্লাসে আসে না। বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনেই এখনো চলে অফিশিয়াল কার্যক্রম। যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জাফরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুমা আক্তার বলেন, স্কুলটিতে একটি মাত্র ভবন। তাও দুই বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন দপ্তরের একাধিকবার যোগযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই বাচ্চাদেরকে খোলা আকাশের ক্লাস করতে হচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার সময় পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নতুন একটি ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘স্কুলটির নানা সমস্যার কথা জানিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর