মনোনয়ন নিয়ে ‘শতভাগ কনফিডেন্ট’ আইভী
মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো প্রস্তাবনার তালিকায় নিজের নাম না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে ‘শতভাগ আশাবাদী’ বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দুদিন পর আজ বুধবার মেয়র আইভী বলেন, ‘নির্বাচন তো করতে চাচ্ছি। আশা করি, দলের নমিনেশন পাব। এ ক্ষেত্রে কনফিডেন্ট তো শতভাগ আছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা সেই অনুযায়ী নির্বাচন করতে চাচ্ছি।’
তবে এ নির্বাচনের ব্যাপারে ‘দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে’ যাবেন না বলেও মন্তব্য করেন বর্তমান এ মেয়র। তিনি বলেন, ‘দলীয় নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়িত হবে। এর বাইরে আমি যাব না।’
গতকাল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিক সভায় কেন্দ্রের কাছে সুপারিশের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান এবং বন্দর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রশিদ নাম চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান উপস্থিত ছিলেন।
পাঁচ বছর আগে শামীম ওসমানকে হারিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়া সেলিনা হায়াৎ আইভী একে ‘এক ব্যক্তির’ সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘নামের প্রস্তাবনা তৈরি নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটা একটা একপেশে সিদ্ধান্ত। এক ব্যক্তির সিদ্ধান্ত। এক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে এটা হয়েছে। অতীতে আমরা দেখেছি, এ রকমটাই হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও এ রকমটাই হয়েছে। ফলে এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে, ওইখানে আইভীর নাম নেই কেন?’
নগর আওয়ামী লীগের এ প্রস্তাবনাকে ‘আওয়ামী লীগের একটা অংশের বক্তব্য, তৃণমূলের কোনো বক্তব্য নয়’ বলেও উল্লেখ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইভী।
‘একটা ব্যক্তির সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হিসেবে ওইখানে তিনটা নাম পাঠানো হয়েছে। আমি মনে করি, তৃণমূলের আওয়াজ শুনতে হলে নারায়ণগঞ্জে আসতে হবে। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের চাওয়া ও তৃণমূলের চাওয়ার সঙ্গে মিল রেখে দলীয় নেত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন- এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস’, যোগ করেন আওয়ামী লীগের এ নেতা।
যে তিনজনের নাম প্রস্তাবনা হিসেবে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে তাতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করেন মেয়র আইভী। তিনি বলেন, ‘তারা নাম পাঠাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে নারায়ণগঞ্জ কী হয়, কী হচ্ছে, কী হবে এবং কেন্দ্রও জানে।’
এ সময় ‘নির্বাচনের পরিবেশ ভালো’ উল্লেখ করে আইভী আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিবেশ সুস্থ-স্বাভাবিক আছে। অস্বাভাবিক কিছু দেখছি না।’
গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামী ২৪ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই ও বাছাই করা হবে আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর। নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ৪ ডিসেম্বর। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় নির্বাচন।
২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসুল এ তিনটি পৌরসভা বিলুপ্ত করে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। একই বছর ৩০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানকে পরাজিত করে সিটির প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন সেলিনা হায়াৎ আইভি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী যিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে আইভি বিলুপ্ত হওয়া নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।
এবার সংসদ সদস্য হওয়ায় আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে শামীম ওসমান নির্বাচন করতে পারছেন না।

নাফিজ আশরাফ, নারায়ণগঞ্জ