অপহরণের নাটক সাজিয়ে নিজেই ফাঁসলেন নারী
সাতক্ষীরার পুলিশ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাঁর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষকে অপহরণের মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার শম্পা বেগম (৩৮) নামের ওই নারীকে ঢাকা জেলার সাভারের নবীনগর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় সেখান থেকে তমাল হোসেন (৩৩) নামে এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ শনিবার দুপুরে শম্পাকে সাতক্ষীরা সিআইডি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।
শম্পা বেগম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওয়ালখালী গ্রামের আকবর আলীর মেয়ে। এর আগে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে শম্পার বিয়ে হয়েছিল। জাহাঙ্গীর আট বছর আগে মারা যান। সিআইডির দাবি, শম্পা ও তমাল নবীনগরে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। জমি বিক্রির পর প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে শম্পা প্রায় দুই বছর পলাতক ছিলেন।
জেলা সিআইডি ক্যাম্পের পরিদর্শক এনামুল হক দাবি করেন, শম্পা বেগম দেড় লাখ টাকায় মৃগিডাঙ্গা গ্রামের মো. আজাদ হোসেনের কাছে নিজের একটি জমি বিক্রি করে রেজিস্ট্রি করে দেন। কিন্তু জমির দখল বুঝিয়ে না দিয়েই ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হয়ে যান।
শম্পার বাবা আকবর আলী এই সুযোগ কাজে লাগায়। মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে জমির ক্রেতা আজাদ হোসেন, তাঁর বাবা গোলাম সরোয়ার, মা শাকিলা বেগম ও প্রতিবেশী আনসার আলীর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা থানায় একটি মামলা করেন আকবর আলী।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, শম্পাকে শীতবস্ত্র দেওয়ার কথা বলে আজাদ সাতক্ষীরায় ডেকে আনেন এবং জোর করে জমি লিখে নেন। এরপর আজাদ ও অন্যরা শম্পাকে অপহরণ অথবা হত্যা করেছেন বলে মামলায় বলা হয়। পরে পুলিশ ওই মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেকমত আলী মামলাটি তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। কিন্তু বাদী আকবর আলী এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন। ফলে আদালত সাতক্ষীরা জেলা সিআইডিকে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতেই গতকাল শুক্রবার জেলা সিআইডির উপপরিদর্শক সৈয়দ তোকাব আলী শম্পা বেগমকে নবীনগর থেকে গ্রেপ্তার করেন বলে সাংবাদিকদের জানান পরিদর্শক এনামুল হক।
তবে শম্পা বেগম সাংবাদিকদের জানান, জমি বিক্রির পর তিনি বাবা-মাকে কিছুই বুঝতে না দিয়ে বাগেরহাটের তমালের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। এরপর তাঁরা ঢাকা চলে যান।
শম্পা আরো দাবি করেন, জমি বিক্রির টাকা তাঁর পরিচিত এক যুবক আত্মসাৎ করেছে।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা