দেশের সামনে সাংঘাতিক অমঙ্গল!
দেশের রাজনীতিতে বিরোধী পক্ষ যত দুর্বল হবে, গণতন্ত্র ততই হুমকির মুখে পড়বে-এমন মন্তব্য করে দেশের তিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে দেশে গণতন্ত্রের স্থান দখল করবে স্বৈরতন্ত্র। জাতির জন্য তা একটা ‘সাংঘাতিক অমঙ্গলের সূচনা’ করবে।
urgentPhoto
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নির্দলীয় সরকারের অধীনে আরো একটি নির্বাচনের দাবিতে বছর খানেকের মাথায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের কঠোর আন্দোলন শুরু হয়। এ সময় দেশজুড়ে লাগাতার অবরোধ, দফায় দফায় হরতাল, পেট্রলবোমা, ক্রসফায়ার আর গ্রেপ্তার আতঙ্কে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
অবশেষে ঢাকা আর চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতি ঘটে সে অচলাবস্থার। কিন্তু গত ২৮ এপ্রিল তিন সিটি নির্বাচন থেকে বিভিন্ন অভিযোগে বিরোধী পক্ষের সরে আসায় প্রশ্ন ওঠে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও। ক্ষমতাসীনদের ক্রমাগত শক্তি প্রয়োগ আর বিরোধীপক্ষের বর্তমান কোণঠাসা অবস্থান ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য কী ধরনের বার্তা দেয় তা নিয়ে রয়েছে বিশ্লেষকদের নানামুখী অভিমত।
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বৈরতন্ত্রের আশঙ্কা করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আরো শক্ত অবস্থানে গেলে ক্রমান্বয়ে হয়তো একটা স্বৈরতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারী আচরণ চলে আসতে পারে। কিছুটা তো এরই মধ্যে আসছে, সেটা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং সেটাই হলো শঙ্কা।’
লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘জাতির জন্য এটা একটা সাংঘাতিক অমঙ্গলের সূচনা করবে, যদি এই অবস্থা বজায় থাকে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সবাইকে চেষ্টা করতে হবে। সরকার হয়তো চাইবে না, কিন্তু বিরোধী দলে যাঁরা আছেন, বিভিন্ন দক্ষিণপন্থী ও বামপন্থী দল, তাঁদের কর্তব্য হবে কীভাবে এটা ঠিক করা যায় তা নিয়ে চেষ্টা করা।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ব্যাপক অনিয়ম, ব্যাপক দুর্নীতি, ব্যাপক অসঙ্গতি-আমরা আশা করি যে, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের শুভবুদ্ধির উদয় হবে, যাতে আমরা এই রকম একটা সম্ভাব্য অনিশ্চয়তা এড়াতে পারি।’
প্রধান বিরোধী জোট হিসেবে পরিচিত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিশ্লেষকরা। তিন বিশ্লেষকই মনে করেন, উভয় পক্ষকে ফিরে আসতে হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে।
ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘বিএনপিকে পুনর্গঠন করতে গলে অনেকগুলো বোল্ড পদক্ষেপ নিতে হবে এবং চেষ্টা যদি অচিরেই না করতে পারে, তাহলে হয়তো পরের নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ।’
ড. বদিউল আলম বলেন, ‘বিরোধী দলের করণীয় আছে, তবে তাদের নেতৃত্বের কাঠামো ভেঙে পড়েছে। তবে আমি মনে করি, যেটা করতে পারে তারা তাদের দলকে পুনর্গঠন করতে পারে। যেভাবে পুনর্গঠন করতে পারে সেটা হলো দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে।’
আবুল মকসুদ বলেন, ‘সবাই যদি বিষয়টাকে একটা অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য একত্রিত না হয়, তাহলে শুধুমাত্র একা বিএনপির ঘাড়ে এটাকে ছেড়ে দিয়ে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো সম্ভাবনা নেই।’
তিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটকে সহনশীলতার রাজনীতিতে ফিরে না এলে গণতন্ত্রের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ ও জনগণ। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রধান দুই দলের আশু পদেক্ষেপও কামনা করেন তাঁরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক