‘আমার থাকার জায়গাটুকু রক্ষা করে দিন’
নিজ সহোদরদের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও জমি আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন মমতাজ বেগম নামের এক নারী। তিনি নিজ বসতভিটা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ এ আকুতি জানান।
মমতাজ বেগমের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের কুন্দুড়িয়া গ্রামে। তিনি জানান, বাবা গোলাপ গাজীর রেজিস্ট্রি করে দেওয়া দেড় বিঘা জমিতে তিনি বাস করছেন। হাঁস-মুরগি পালন করে সংসার নির্বাহ করেন।
মমতাজের অভিযোগ, নিঃসন্তান অবস্থায় স্বামীর ঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি জমি বিক্রির চেষ্টা করেন। তিনি ১০ কাঠা জমি বিক্রি করলেও তাঁর সহোদর মতিয়ার রহমান কোনো টাকা না দিয়ে ১৭ কাঠা জমি লিখে নেন। ভাই মতিয়ার একজন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য। তাঁর অনেক ক্ষমতা। তাই টাকা না দিয়ে জমি থেকে উৎখাতের চেষ্টা করতে থাকেন।
মমতাজ লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ১ নভেম্বর সহোদর মতিয়ার ও হাসান এবং মতিয়ারের স্ত্রী রুবিনা খাতুন ধারালো দা ও বঁটি নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। তাঁরা বাড়ির মধ্যে ভাঙচুর করেন। হাঁস-মুরগির বাক্সও ভেঙেচুরে দেন। পরে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে আশাশুনি থানায় যান তিনি। কিন্তু পুলিশ তাঁর অভিযোগ নেয়নি।
প্রেসক্লাবে মমতাজ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যদি পারেন, আমার থাকার জায়গাটুকু রক্ষা করে দিন।’
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মমতাজের ভাই ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন, ‘তাঁর বোন কোনো জমি পাবে না। মমতাজ তাঁর (মতিয়ার) নামে ২৮ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে। মুরগির বাক্স ভাঙচুর করেছে কে, তা আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজ দেখে গেছেন। বিষয়টি বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যানেরও জানা আছে।’
জানতে চাইলে এসআই মাহফুজ জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মুরগির বাক্স ভাঙচুর করা অবস্থায় দেখতে পান। এ বিষয়ে দুই পক্ষই অভিযোগ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা