ইটিভির টক শোতে হাতাহাতি
টেলিভিশনে টক শোতে বাকযুদ্ধের ময়দানে আবার ঘটল হাতাহাতির ঘটনা। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর ইটিভিতে ‘একুশের রাত’ টক শোতে হাতাহাতি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুজ্জামান ও মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদের মধ্যে।
আলোচনার সময় উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে দেখা যায়। ‘অসৌজন্যমূলক’ কথায় আক্রমণ শুরু হয়। একপর্যায়ে ড. শহীদুজ্জামানকে আক্রমণ করেন আবদুর রশিদ। ড. শহীদুজ্জামানও এর প্রতিবাদে হাত চালান।
গতকাল সোমবার রাতের এ অনুষ্ঠানের প্রযোজক মাসুদুল হাসান রনি। সঞ্চালক ছিলেন মঞ্জুরুল আলম পান্না। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি টিপু সুলতান।
সরাসরি সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের আস্তানা কতটা মজবুত হয়েছে ও জঙ্গির আস্তানা রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলছে।বিষয়টি আরো সামনে চলে আসে গত বছর যখন আল-কায়েদার বর্তমান কাণ্ডারি আইমান আল-জাওয়াহিরি যখন ঘোষণা দেন, ভারত উপমহাদেশ ও বাংলাদেশে সংগঠনটির শাখা গঠন করা হবে—তখন থেকেই বিষয়টি জোরেশোরে সামনে চলে আসে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সব ধরনের জঙ্গিবাদ মোকাবিলার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। তার পরও আমরা দেখেছি, একের পর এক ব্লগার হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। আর বিভিন্ন জঙ্গিবাদের কার্যক্রম সামনে চলে এলেও সেটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে যে এর সঙ্গে আল-কায়েদার সম্পৃক্ততা কতটুকু? ব্লগার অভিজিৎ রায়সহ আরো হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ তথ্য প্রকাশ করে। আবারো সামনে চলে এসেছে বাংলাদেশে আল-কায়েদা আদৌ রয়েছে কি না বা থাকলে তা কতখানি এবং তা দমনের সক্ষমতা আমাদের দেশের রয়েছে কি, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করব।
এ বিষয়ে আলোচনার একপর্যায়ে আবদুর রশিদ বলেন, ‘বুঝতে হবে আপনি জঙ্গিবাদের প্রচার করছেন কি না।...অহিংস পন্থায় হিংস মতাদর্শকে উজ্জীবিত করা হচ্ছে কি না, তা আইনের আওতায় আনতে হবে। সে জায়গাটাতে একটা দুর্বলতা আছে বাংলাদেশের আইনে।’
ড. শহীদুজ্জামান বলেন, ‘স্ট্র্যাটেজিক অবজেকটিভ থাকতে পারে। ট্যাকটিক্যাল লেভেলে ইন্টেলিজেন্স ও স্ট্র্যাটেজিক লেভেলে ইন্টেলিজেন্স—এ ধরনের পার্থক্য ইন্টেলিজেন্স নিয়ে যে সমস্ত লেখা হয়, সেখানে আমার চোখে পড়েনি।...ইন্টেলিজেন্স ইজ ইন্টেলিজেন্স। ট্যাকটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স ও স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্সের কথা জীবনে কখনো শুনি নাই। এ রকম কোনো ধারণা কখনো কোথাও নাই...।’
এ প্রসঙ্গে আবদুর রশিদ বলেন, আমি আর বলতে চাইছি না। কারণ, সে (শহীদুজ্জামান) বোঝে না। স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স, স্ট্র্যাটেজিক অবজেকটিভ, স্ট্র্যাটেজিক লেভেল...এখানে লেভেল হচ্ছে স্ট্র্যাটেজিক অপারেশন অ্যান্ড ট্যাকটিক্যাল। এখানে ইন্টেলিজেন্স আছে, অপারেশন আছে, অবজেকটিভ আছে—সবই আছে। হয়তো উনার (শহীদুজ্জামান) এটা জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে বলছেন। কিন্তু উনি যে কথা বললেন যে এটা নেই, এ ধরনের সুইপিং স্টেটমেন্ট প্রত্যাশা করি না। আমি যেটা বলছি, স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স আছে, উনি বোঝাতে চাইছেন আমরা সবাই অশিক্ষিত লোক এখানে আসছি। উনিই এখানে শিক্ষিত।’
এ পর্যায়ের শহীদুজ্জামান আঙুল তুলে বলেন ‘ইউ আর টকিং অ্যাবাউট মি?’
রশিদ বলেন, ‘ডোন্ট শো ইয়োর ফিঙ্গার...।’
এই পর্যায়ে এসে দুজনে হাতাহাতি শুরু করেন।
উপস্থাপক বিরতিতে গিয়ে হাতাহাতি থামানোর চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টক শোর সঞ্চালক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, ‘অনুষ্ঠানে উপস্থিত যাঁরা ছিলেন, সবারই সুনাম রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁরা কথা বলেন। কিন্তু এ ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ অপ্রত্যাশিত। টক শোতে এসে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আক্রমণ করা উচিত নয়।’

অনলাইন ডেস্ক