পুলিশের বাধায় পণ্ড ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির কর্মসূচি
পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে যশোরের কেশবপুরে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির পূর্ব নির্ধারিত পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি।
আর এর প্রতিবাদে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর কেশবপুর প্রেসক্লাবের সামনে গণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন সংগ্রাম কমিটির নেতারা।
পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে সংগ্রাম কমিটির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও করতে গেলে তা পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক, যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান নান্নু ও সদস্য সচিব রমেশ দত্ত বিকেল ৪টায় কেশবপুর প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের জানান, পূর্ব নির্ধারিত ‘পানি সরাও মানুষ বাঁচাও’-এর দাবিতে বিকেল ৩টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচির আগে ত্রিমোহিনী মোড়ে সমাবেশ করেন তাঁরা। সমাবেশ শেষে ঘেরাও কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়ে সমাবেশ পণ্ড করে দেয় পুলিশ।
তবে বাধার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ। কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি ছিল কি না, তা তাদের জানা নেই। সংগ্রাম কমিটির অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
গত মাসে দুই দফা প্রবল বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পানি ও হরিহর নদের পানিতে কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও কেশবপুর পৌরসভা এলাকাসহ ৮৫টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের পাশে অস্থায়ী আবাস তৈরি করে ঠাঁই নিয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রেও আশ্রয় নিয়েছে বহু মানুষ।
এদিকে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের চিনাটোলা থেকে কেশবপুরের আলতাপোল ২৩ মাইল এলাকা পর্যন্ত সড়ক প্লাবিত হয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে কেশবপুর শহরের ৯টি সংযোগ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
এ পর্যন্ত বানভাসিদের জন্য সরকারিভাবে ৬৯ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং উপজেলা পরিষদ থেকে পাঁচ লাখ টাকার শুকনা খাবার ও পলিথিন সরবরাহ করা হয়েছে। গত মাসের ৩০ তারিখ থেকে হরিহর নদের পলি অপসারণের জন্য একটি স্কেভেটর মেশিন কাজ শুরু করেছে।

আশরাফ-উজ-জামান খান, কেশবপুর