তিনটি আইসিটি পোর্ট চায় ভারত, বাংলাদেশ চায় দুটি
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বাংলাদেশের তিনটি আইসিটি পোর্ট চায় ভারত। আর ভারতের দুটি এমন পোর্ট চায় বাংলাদেশ।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ নৌসচিব পর্যায়ের অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) নবায়ন- খসড়া কোস্টাল শিপিং অ্যাগরিমেন্ট অনুসাক্ষরসহ আইসিটিপোর্ট বিষয়ে আলোচনা হয়। গত ২০ থেকে ২২এপ্রিল নয়াদিল্লিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নৌপরিবিহনমন্ত্রী শাজাহান খান খসড়ায় অনুসাক্ষরসহ প্রটোকলের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, পোর্ট অব কলের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নয়াদিল্লিতে আলোচনা হয়। সেখানে ভারত পানগাঁওসহ বেসরকারি রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর এ কে খানের আইসিটি পোর্ট ও মেঘনার সামিটসহ যে পোর্টগুলোর ব্যবহারের উপযোগিতা রয়েছে উল্লেখ করে সেগুলো নৌ প্রটোকলের শর্ত অনুযায়ী পোর্ট অব কলভুক্ত করার অনুরোধ করেছে।
আলোচনায় ভারতের ফারাক্কা ও কলকাতার ব্যান্ডেল পোর্ট অব কলভুক্ত করার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। জবাবে ভারত এ বিষয়ে পরে মতামত জানাতে চেয়েছে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী আরো বলেন, ভারত সব প্রটোকল রোড উন্নত করার প্রস্তাব করেছে। এতে বলা হয়েছে লিস্ট অ্যাভেলেভেল ডেপথ (এলএডি) নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং আঞ্চলিক আইডিএর সহায়তার যৌথ প্রস্তাবের সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে জানানো হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে তাদের জানানো হবে।
নৌ প্রটোকলের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক চুক্তির অনুসরণে নৌ প্রটোকল পাঁচ বছরের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। এটি ১ এপ্রিল (এগিয়ে ধরা হয়েছে) থেকে কার্যকর হবে। এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ মার্চ।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রটোকল অব ইনল্যান্ড ১৯৭২ সালের নভেম্বর প্রথমবারের মতো স্বাক্ষরিত হয়। পরে নবায়নের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা অব্যাহত রয়েছে। এত দিন তিন বছর পর পর এটি নবায়ন করা হতো। এখন মেয়াদ বাড়িয়ে পাঁচ বছর পর পর করা হলো।
মন্ত্রী জানান, উভয় দেশের সচিব পোস্টাল শিপিং অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়ায় অনুস্বাক্ষর করেছেন। স্টান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) শিগগিরই চূড়ান্ত হবে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী আরো বলেন, আগে কলকাতা থেকে জাহাজ কলম্বো-সিঙ্গাপুর হয়ে বাংলাদেশে আসত। আবার চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর কলম্বো হয়ে মুম্বাই যেত। এসওপি চূড়ান্ত হলে চট্টগ্রাম থেকে কলকাতা বা মুম্বাই থেকে মংলা হয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, চলতি বছরে মোদির বাংলাদেশ সফরে খসড়া চুক্তিগুলো চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এম এন নোমান