তিন সিটিতে জামানত বাঁচল ৬ জনের
ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ৪৮ জন। এঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত ছয়জন বাদে বাকি সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা-২০১০ এর ৪৪ বিধির ৩ উপবিধিতে বলা হয়, ‘ভোট গ্রহণ বা ভোট গণনা সমাপ্ত হইবার পর যদি দেখা যায় যে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ অপেক্ষা কম ভোট পাইয়াছেন, তাহা হইলে তাহার জামানতের টাকা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হইবে।’
নিয়ম অনুযায়ী, তিন সিটিতে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ১২ দশমিক ৫ শতাংশের জামানত বেঁচেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
মেয়র হওয়ার লড়াইয়ে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে চার লাখ ৬০ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনিসুল হক। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন তিন লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট। বাকি ১৪ প্রার্থীদের কেউই তাদের পাঁচ ভাগের এক ভাগও ভোট পাননি।
ফজলে বারী মাসউদ কমলা লেবু প্রতীকে ১৮ হাজার ৫০, মাহী বি চৌধুরী ঈগল প্রতীকে ১৩ হাজার ৪০৭ ও টেলিস্কোপ প্রতীকে মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি সাত হাজার ৩৭০ ভোট পান। বাকি ১১ জনের কেউই তিন হাজার ভোটও পাননি।
ওই সিটি নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে আট লাখ ৭৪ হাজার ৫৮১টি। সে হিসাবে জামানত টেকাতে ভোট দরকার ছিল এক লাখ নয় হাজার ৩২২টি। কিন্তু দুজন মাত্র প্রার্থী এ সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ইলিশ মাছ প্রতীকে পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত মির্জা আব্বাস মগ প্রতীকে দুই লাখ ৯৪ হাজার ২৯১টি ভোট পান। এ অঞ্চলে ভোট পড়ে ৯ লাখ পাঁচ হাজার ৪৮৪টি। সে হিসাবে জামানত বাঁচাতে ভোটের দরকার ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ১৮৫ দশমিক ৫টি।
এই সিটি এলাকায় বাকি ১৮ প্রার্থীর মধ্যে ফ্লাস্ক প্রতীকে মো. আবদুর রহমান ১৪ হাজার ৭৮৪ এবং সোফা প্রতীকে হাজি মো. সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন চার হাজার ৫১৯টি ভোট পান। তিন হাজার ভোটও পাননি বাকি ১৬ জন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
চট্টগ্রামে মেয়র হওয়ার দৌড়ে ছিলেন ১২ জন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আ জ ম নাছির উদ্দীন হাতি প্রতীকে চার লাখ ৭৫ হাজার ৩৬১ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এম মনজুর আলম কমলা লেবু প্রতীকে পান তিন লাখ ৪৮ হাজার ৩৭টি ভোট। এ সিটিতে মোট ভোট পড়েছে আট লাখ ৬৮ হাজার ৬৬৩টি। সে অনুযায়ী, জামানত বাঁচাতে দরকার ছিল এক লাখ আট হাজার ৫৮২ দশমিক ৮৭৫টি ভোট।
প্রার্থীদের মধ্যে চার হাজারের বেশি ভোট পান ছয়জন। এঁদের মধ্যে চরকা প্রতীকে এম এ মতিন ১১ হাজার ৬৫৫, টেবিল ঘড়ি প্রতীকে মো. ওয়াজেদ হোসেন ভূঁইয়া নয় হাজার ৬৬৮, ডিশ অ্যান্টেনা প্রতীকে মো. সোলায়মান আলম শেঠ ছয় হাজার ১৩১ ও ময়ূর প্রতীকে হোসাইন মো. মুজিবুল হক চার হাজার ২১৫ ভোট পান। বাকি ছয়জন তিন হাজারের কম ভোট পান।

আজহারুল ইসলাম