শ্রীকলা গ্রামে কমছে না সাপের উপদ্রব
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শ্রীকলা গ্রামে সাপের উপদ্রব কমছে না। গতকাল রোববার রাতে আরো তিনজন সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন। গত আটদিনে এ গ্রামের ১০ জন সাপের ছোবলের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুজন।
গতকাল রোববার শ্রীকলা গ্রামে তিনজনকে ছোবল দেয় সাপ। এরা হচ্ছেন, জাহানারা বেগম, জাহানারার ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং তাপস দেওয়ান। গত শনিবার পর্যন্ত এ গ্রামের সাতজন সাপের দংশনের শিকার হন। এরমধ্যে আনার আলী ও তাঁর ছেলে আমিরুল মারা যান।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুল ইসলাম মন্টু জানান, গতকাল রোববার রাতে জাহানারা বেগম, সাইফুল ইসলাম ও তাপস দেওয়ান এবং এর একদিন আগে সাইফুলের ভাবি জাহানারা খাতুনকেও সাপ ছোবল দেয়।
মনিরুল আরো জানান, শ্রীকলা মধ্যপাড়ার নাসিমা, রাফিদুল ইসলাম, শেখ পাড়ায় আল আমিন ও মর্জিনা খাতুন সাপের দংশনের শিকার হন।
এদিকে সাপের দংশনে স্বামী আনার আলী ও ছেলে আমিরুলের মৃত্যুর পর আরো এক ছেলেকে নিয়ে আয়েশা খাতুন বাড়ি ছেড়ে জীরনগাছায় একটি দোতলা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন এমন পরিবারের সদস্যরা জানায়, ঘটনা ঘটলেই দংশিত স্থানের কাছাকাছি শরীরে শক্ত করে রশি বাঁধেন। পরে স্থানীয় ওঝার কাছে যান। ওঝা আবদুল আহাদ, মো. শহিদুল্লাহ, মিয়ারাজ আলী ও মিয়ারাজের স্ত্রী স্বপ্না এলাকায় কাটাচ্ছেন ব্যস্ত সময়।
ওঝাদের কথা
গ্রামের বাসিন্দারা জানায়, ওঝাদের কাছ থেকেই লোকজন ‘চিকিৎসাসেবা’ নিচ্ছে। সাপে কাটা রোগীদের ‘চিকিৎসা’সেবা দিচ্ছেন ওঝা স্বপ্না খাতুন। তিনি বলেন, ‘শ্রীকলায় যে ধরনের সাপ দংশন করছে, সেগুলো কালাচ জাতের সাপ। এই ধরনের সাপে কামড়ালে যন্ত্রণা হয়, কিন্তু রোগী সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় না।’ এই সুযোগে চিকিৎসা করালে রোগী সুস্থ হয়ে যায় বলে জানান তিনি। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি শ্রীকলা গ্রামে পাঁচজনকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন বলে দাবি করেন। একইভাবে ওঝার দায়িত্ব পালন করেছেন আবদুল আহাদ ও মহতপুরের শহিদুল্লাহসহ কয়েকজন। ওঝা স্বপ্না জানান, এবারের অতিবৃষ্টির কারণে বিলের সাপ ডাঙ্গায় বাড়িঘরে আশ্রয় নিয়েছে। এবার সাপের উপদ্রব বেশি।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুল ইসলাম মন্টু জানান, শ্রীকলায় গতকাল রোববার রাতে একটি কালাচ সাপ স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে মারা পড়েছে। তিনি জানান, সাপের আতঙ্ক কমানোর জন্য গ্রামের মানুষ মসজিদে মন্দিরে মানত করছে। অনেক হিন্দু পরিবার বাড়িতে পূজা দিচ্ছে। ভয়ে ছেলেমেয়েরা স্কুলে কম যাচ্ছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আকসেদ আলী জানান ঘটনাস্থল শ্রীকলায় বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও জিয়াউর রহমান নামের দুজন চিকিৎসককে তদন্ত করার জন্য পাঠানো হয়। উভয়ে জানান, সাপগুলো বিষাক্ত। তবে এর উপদ্রব বাড়ার কারণ কী তা জানা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা