বার বার তিনিই ঘটনা ঘটান!
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের শ প দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২০ আগস্ট ওই শিক্ষার্থীর বাবা আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব বরাবর লিখিত অভিযোগে এ কথা জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সম্প্রতি ওই শিক্ষক তাঁর মেয়েকে কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বিষয়টি টের পেয়ে শিক্ষকের হাত থেকে তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করে। বিষয়টি ছাত্রী তার অভিভাবকদের জানায়। এ ঘটনায় সুবিচার পাওয়ার জন্য মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগেও আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় মুচলেকা দিয়ে পার পান তিনি।
এক বছর আগে আলফাডাঙ্গার রুদ্রবানা গ্রামের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষক আবদুল লতিফকে আট হাজার টাকা জরিমানা করেন।
রুদ্রবানার আরো এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করলে তাঁর অভিভাবকরা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক আবদুল লতিফকে মারধর করেন।
গত বছর হিদাডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষা চলাকালে ওই শিক্ষক নকলে সহযোগিতা করেন। এ অপরাধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল খায়ের ওই শিক্ষককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকার পরও মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে গতকাল সোমবার সুপার নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করেছে।
ছাত্রী শ্লীলতাহানির ঘটনায় গত ২২ আগস্ট মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. আলমগীর কবির আলফাডাঙ্গা থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তবে আবদুল লতিফ তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বানা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাদী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আলফাডাঙ্গা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনা আমি লোকমুখে শুনেছি। তবে আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। যদি অভিযোগ আসে তা হলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আলফাডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মু. খায়রুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর