শিগগিরই শ্রম আইন বিধিমালা
আসছে মে মাসের মধ্যে সরকার শ্রম আইন ২০১৩-র বিধিমালা প্রণয়ন করতে চলেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেন।
ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে খসড়া বিধিমালা বিষয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে মন্ত্রী আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
সভায় শ্রমিক নেতারা বিধিমালার ওপরে বেশকিছু মতামত ব্যক্ত করেন। পরে মন্ত্রী জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাঁরা বিধিমালা চূড়ান্ত করবেন এবং প্রয়োজনে আবার শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
২০০৬ সালে প্রণীত শ্রম আইনটি ২০০৯, ২০১০ এবং ২০১৩ সালে সংশোধিত হলেও আজ পর্যন্ত এটি প্রয়োগের বিধিমালা তৈরি হয়নি। এ কারণে আইনের সঠিক প্রয়োগও সম্ভব হচ্ছে না।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে খসড়া বিধিমালাটি নিয়ে আলোচনা করেছি। বিশ্বে আমাদের গার্মেন্টস খাতের বেশ সুনাম আছে। আর এর কারণ হয়েছে নারীরা, দেশের মোট শ্রমশক্তিতে যাদের অবদান প্রায় ৭০ শতাংশ। আমরা আসছে ৭ মে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করব এবং শ্রমিক নেতাদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করব। সেখানে নারীদের জন্য পৃথক ইউনিট চালুর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে।’
‘যদি মালিকপক্ষের কোনো আপত্তি থাকে, তবে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে আমরা সমঝোতার চেষ্টা করব,’ বলেন মন্ত্রী।
সভা শেষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, নতুন বিধিমালাতে বেশকিছু ভালো পদক্ষেপ আছে। যেমন : ছোট আকারের কর্মক্ষেত্রের জন্য এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা কমিটি গঠনের সুযোগ এবং কৃষিশ্রমিকদের জন্য এলাকাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন করার অবকাশ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক, সাংসদ ইসরাফিল আলম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী, শ্রমিক নেতা শিরিন আখতার এবং শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতারা।
টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গত মঙ্গলবারের প্রতিবেদনকে আংশিক প্রত্যাখ্যান করা হয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, ‘টিআইবির যে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১২৭ কোটি টাকা জমা হয়েছিল এবং সেখানে ১০৮ কোটি টাকা অব্যবহৃত পড়ে আছে, সে প্রতিবেদন সঠিক নয়। রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পৃথক কোনো তহবিল নেই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু টিআইবি দাবি করেছে ১৯ কোটি টাকা।
বিভিন্ন দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থসহায়তা করার কাজে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ব্যবহৃত হয় বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, ‘সরকার, মালিকপক্ষ, বায়ার এবং আইএলও [আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা] ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্যোগে যে তহবিল গঠিত হয়েছে, তা থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৫ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও পক্ষকে সাহায্য দেওয়া হয়েছে।’
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পায়নি –এমন অভিযোগ খণ্ডন করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সাহায্য পায়নি, তবে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিআইবি গত মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায়, বিভিন্ন দাতা ও প্রতিষ্ঠান রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ১২৭ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সে তহবিলের ১০৮ কোটি টাকা অব্যবহৃত পড়ে আছে।

সৈয়দ সামিউল বাশার