ব্যাংক ডাকাতিতে শিবির জড়িত, দাবি ডিআইজির
ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজারে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও সাত খুনের ঘটনার সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান। আজ বুধবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
ডিআইজি জানান, আটক দুজনের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, নিছক ডাকাতির উদ্দেশ্যে নয়, জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ডাকাতরা ব্যাংকের ভল্ট লুট করেনি উল্লেখ করে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এটা ডাকাতদের নতুন কৌশল।
নুরুজ্জামান বলেন, ‘পাঞ্জাবিতে রক্ত লেগেছিল। অর্থাৎ সে (বোরহান)তখন হয়তো নিজে ছুরিকাঘাত করেছে বোঝা যাচ্ছে। ধরা পড়ার পর সে পাগল-টাগল সাজার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন রকম তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। পরবর্তীকালে আমরা তার পরিচয় পেয়েছি। তার কাছে যে সমস্ত জিহাদি বইটই পাওয়া গেছে, দেখা যাচ্ছে সে শিবিরের সদস্য।’
এদিকে আটক ডাকাত সাইফুল ও বোরহানসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান মামলাটি করেন।
আর ডাকাতির ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। রাতেই নিহত ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আটজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে ডাকাতদের হামলায় আহত ১০ জন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তাঁদের অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আহতদের একজন মানিকগঞ্জের শফিকুল ইসলাম। কাঁচামালের ব্যবসায়ী। লোকজনের সঙ্গে ডাকাতদের প্রতিহত করতে গিয়ে বোমায় তাঁর পা উড়ে গেছে। গত দুই দিনেও অন্যদের মতো তাঁর সহায়তায় এগিয়ে আসেনি কেউ। প্রাণে বেঁচে গেলেও ভর করেছে সংসার ও একমাত্র মেয়ে মাসুমার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
এদিকে ডাকাত সন্দেহে আটক রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সাইফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। সাইফুল বলেছে, ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা হয় ইজতেমার মাঠে। আর সে ছিল বোমা বিস্ফোরণের দায়িত্বে।
সাইফুল আর বোরহানের দেওয়া তথ্য ধরেই এখন ডাকাতির ঘটনার তদন্ত চলছে বলে আশুলিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় বেসরকারি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শাখায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির সময় ডাকাত দলের গুলি, বোমা আর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারা যান শাখা ব্যবস্থাপক, নিরাপত্তারক্ষী, গ্রাহকসহ সাতজন। পরে ক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে এক ডাকাতের মৃত্যু হয়। ধরে পড়ে সাইফুল ও বোরহান নামের দুজন।

জাহিদুর রহমান