কমেছে পানি, বেড়েছে দুর্ভোগ
ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ কুড়িগ্রামে নদনদীর পানি কমেছে। কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কিন্তু দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিত এলাকার মানুষজনের। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত নানা রোগ।
সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণতৎপরতা অব্যাহত থাকলেও সমন্বয়হীনতার অভাবে ত্রাণসহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ বন্যাদুর্গতদের। এসব এলাকায় নৌকা দেখলেই ত্রাণের আশায় ছুটছে মানুষজন। এ অবস্থায় পুর্নবাসনসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা কামনা করছেন তাঁরা।
জেলা প্রশাসন থেকে এক হাজার ২৭৫ টন চাল, ৩৮ লাখ টাকা ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু টানা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছয় লাখেরও বেশি মানুষের জন্য তা অপ্রতুল।
কিছু এলাকার ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও এখনো বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িতে সহসাই ফিরতে পারছেন বাসিন্দারা। অনেক পরিবার বাঁধ ও পাকা সড়কে আশ্রয় নিয়ে টানা দুই সপ্তাহ ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
এদিকে চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়া থানাহাট ইউনিয়নের কোষ্টারী গ্রামটির দুই শতাধিক ঘরবাড়ি এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। এ গ্রামের পরিবারগুলো গত এক সপ্তাহ ধরে কে সি রোড়ের কোষ্টারী গ্রামসংলগ্ন পাকা সড়কে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এক কেজি ত্রাণের চালও জোটেনি তাদের।
ব্যাপারে থানাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘সরকারিভাবে যে রিলিফের চাল পেয়েছি, তা চরাঞ্চলের সব মানুষকে দেওয়া সম্ভব হয় না। এ গ্রামের ওপর দিয়ে বেসরকারি ত্রাণসামগ্রী চরে নিয়ে গেলেও এখানকার মানুষ এখনো কিছুই পায়নি।’

হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম