সাতক্ষীরায় জঙ্গি সন্দেহে শিশুসহ আটক ৫
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসা থেকে শিশুসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আটক পাঁচজন হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মেহেদি হাসান ইমরান (২৩), খুলনা জেলার লবণচরার হাসনাবাদ গ্রামের আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম (২৭), মেহেরপুর জেলার শিবচরের আলোপুরের আবদুল খালেক মোল্লার ছেলে মোশাররফ হোসেন (২০), শরীয়তপুর জেলার জাজিরার চরদুপুর গ্রামের আহমেদ নাজিরের ছেলে নাজিম হোসেন (২৩) ও একই গ্রামের কুদ্দুস মাঝির ছেলে ইয়ামিন হোসেন (১২)। তাঁরা এখানে আত্মগোপনে থেকে জঙ্গিবিষয়ক তৎপরতা চালাচ্ছিলেন বলে স্থানীয় চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রহমান জানান, আটককৃতরা ২০ দিন আগে থেকে খাজরা ইউনিয়নের ফটিকখালী হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজখানায় অবস্থান নেন। সেখানে তাঁরা ধর্মীয় আলোচনা করতেন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তাঁদের স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁরা জঙ্গি কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম জানান, ফটিকখালী হাফিজিয়া মাদ্রাসাটি অনেকটা দুর্গম এলাকায়। একই উপজেলার খালিয়া গ্রামের আনিসুর রহমান মাদ্রাসাটি পরিচালনা করেন। যুবকদের আটক করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তিনি জানান, আনিসুর রহমানের স্ত্রী নারীদের সংগঠিত করতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান বলে খবর রয়েছে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আনিসুরের খোঁজে ওই বাড়ির দিকে দলবদ্ধ হয়ে রওনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ইউপি চেয়ারম্যান জানান, পাঁচজনের মধ্যে ১২ বছর বয়সের যে শিশুটি আছে, সে ওই যুবকদের জন্য বিভিন্ন বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসত। তার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ওই যুবকরা রাতভর জেহাদি কথাবার্তা বলতেন।
যুবকদের বরাতে চেয়ারম্যান আরো জানান, তাঁরা সেখানে হেফজ শিখতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে তাঁদের প্রধান রফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন বলে দাবি করেছেন। এই ইটাগাছা মাদ্রাসায় ২০০৫ সালে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ হতো বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. সালাহউদ্দিন জানান, পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁরা জঙ্গি কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা