দলীয় সমর্থকদের কাছে লাঞ্চিত নারী সাংসদ সেলিনা আখতার বানু
জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশ ও জাতীয় শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেকের সমর্থকদের কাছে লাঞ্চিত হয়েছেন সংরক্ষিত মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা আসনের নারী সংসদ সদস্য সেলিনা আখতার বানু।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশ ও আগামী ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভার শেষ দিকে গাংনী উপজেলা মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার সময় সংসদ সদস্য এ ঘটনার শিকার হন।
পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি অনুষ্ঠান স্থল থেকে বেরিয়ে আসেন।
স্থানীয় ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, প্রস্ততি সভায় বক্তারা নারী সংসদ সদস্য সেলিনা আখতার বানুকে উদ্দেশ্য করে টিআর, কাবিখা, সোলার প্রকল্পের অর্থ কাকে দিয়েছেন এমন প্রশ্ন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক। ওই সকল প্রকল্পের অর্থ বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে দেয়ার অভিযোগ ওঠে সংসদ সদস্যর বিরুদ্ধে। পরবর্তিতে সংসদ সদস্য সেলিনা আখতার বানু বক্তব্যের সময় এমএ খালেকের অভিযোগের জবাব দেন। এসয় এমএ খালেকের গাংনীতে সরকারি খাদ্য গুদামের গমের দুর্নীতিসহ বিভিন্ন কর্মকাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা শুরু করলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেকের সমর্থকরা মিলনায়তনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিলে সংসদ সদস্য বক্তব্য শেষ না করে অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন।
সংসদ সদস্য সেলিনা আখতার বানু অভিযোগ করে বলেন, নেতাকর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এম এ খালেকের পক্ষ নিয়ে তাকে আক্রমন করার উদ্দেশ্যে নিয়ে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যের জবাব দিতে শুরু করলে এম এ খালেকের সমর্থকরা হলরুমে উত্তেজনা সৃষ্টি করে তার উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, এসময় তাদের উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের সাথে ধাক্কা ধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে গাংনী থানা পুলিশ আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ বিষয়ে থানায় কোনো জিডি বা অভিযোগ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিনি সরাসরি এ বিষয়ে এম এ খালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন বলে জানান।
সেলিনা আখতার বানু আরো অভিযোগ করে বলেন, আমার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে খালেক যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা মেনে নেওয়ার মত না। হিজলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং এম এ খালেকের গাড়ি চালক হাফিজ পুর্ব পরিকল্পনা মাফিক তার উপর আক্রমন করার চেষ্টা করলে সংসদ সদস্যর লোকজন তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন বলে তিনি জানান।
গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ওই সমাবেশের সভাপতি শহিদুজ্জামান খোকন বলেন, একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্রুপ মনোভাব নিয়ে বক্তব্য দেয়ার কারণে অনুষ্ঠানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফলে সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
তবে অভিযুক্ত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক বলেন, কোনো উত্তেজনা ঘটনা ঘটেনি। সংসদ সদস্য বক্তব্য দেয়ার সময় আপক্তিকর কথাবার্তা বলায় হলরুমে বসে থাকা নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে গেলে তিনি তার বক্তব্য শেষ করতে পারেননি। এছাড়া কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, বক্তব্য দেয়া নিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে যায়।

মেহেরপুর প্রতিনিধি