কুড়িগ্রামে দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি
কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজীবপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার নদ-নদীর অববাহিকার দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচরের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বন্যাদুর্গত এলাকার অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে উঁচু বাঁধ ও পাকা সড়কে আশ্রয় নিয়েছে।
চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চরের মজিবর রহমান বলেন, ‘ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। কোনোরকমে চৌকির ওপর বউ-বাচ্চা নিয়ে আছি। কাজও নাই খাবারও নাই। পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে মনে হয় বাঁচার উপায় নেই। আর বাড়িতে থাকা যায় না।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার্তদের জন্য জেলার নয় উপজেলায় পাঁচ লাখ টাকার শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আজ বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও ৯০ টন চাল বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আরো ২০০ টন চাল ও দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি অপরিবর্তিত থাকলেও বেড়েছে দুধকুমারের পানি।

হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম