জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে বর্তমান সরকারের হুবহু মিল আছে
বর্তমান সরকারের সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীর হুবহু মিল আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাসায় যান রিজভী। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উল্লিখিত কথা বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক এই ভিপি।
রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় অধ্যাপক রেজাউল করিমের বাসায় গিয়ে তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা, মেয়ে রিজওয়ান হাসিন শতভী, ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভের সঙ্গে দেখা করে বিএনপির চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে সমবেদনা এবং হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা যেমন নিজেদের মতাদর্শ ছাড়া আর অন্য মতাদর্শে বিশ্বাস করে না, এ সরকারও তেমনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে।’
অধ্যাপক রেজাউল হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, মানুষকে বিভ্রান্ত ও জনদৃষ্টিকে ঝাপসা করে দেওয়ার জন্য নয়, প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আমি এসেছি, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহমর্মিতা ও শোকবার্তা নিয়ে। এ ঘটনার পরপরই দলের পক্ষ থেকে শোকবাণী দেওয়া হয়েছে। তারপরও ঢাকা থেকে খালেদা জিয়া আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের জীবন এভাবে চলে যাবে, এটা কখনো কাম্য হতে পারে না।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে চারদিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, নৈরাজ্য ও অন্ধকারের মধ্যে দেশ নিপতিত হয়েছে। এখন চারদিকে হত্যা এবং রক্তপাত। এটাই এ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে কারো কোনো নিরাপত্তা নেই।
এ সরকারের সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীর অনেক ক্ষেত্রে মিল রয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘জঙ্গিরা যেমন যে মতাদর্শে বিশ্বাস করে, তা ছাড়া অন্য মতাদর্শকে বরদাশত করে না, তাদের হত্যা করে, রক্তপাত ঘটায়—এ সরকার তেমনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে, গণতন্ত্রের ন্যূনতম নিয়মকে মান্য করে না, সরকারের সমালোচনা সহ্য করে না, বিরোধী মত সহ্য করতে পারে না। বিচারবর্হিভূত হত্যা, গুপ্তহত্যা, গুম ও খুনই হচ্ছে এই সরকারের শাসন পরিচালনার অন্যতম শর্ত।’
‘আজকে যে জঙ্গিদের কথা বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে এরা একের পর এক মানবতাবিরোধী, সভ্যতা ও সংস্কৃতিবিরোধী জঘন্য প্রাণবিনাশী কর্মকাণ্ড করছে। অথচ এ সরকার, যার হাতে রাষ্ট্রের সকল সরঞ্জাম গোয়েন্দা বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত তাদের খুঁজে বের করতে পারেনি।’
রাবির চারজন শিক্ষক হত্যা প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, চারজন শিক্ষক খুন হলেন, অথচ এই সরকার এখন পর্যন্ত এর বিচারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এর জন্য কারা দায়ী, কীভাবে শিক্ষকদের একের পর এক জীবন চলে যাচ্ছে—এটা বের করতে সরকার উদাসহীন। অথচ এই সরকার জঙ্গিদের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, এ জন্য বিরোধী দল দায়ী। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই চরম ব্যর্থতা। সরকার জঙ্গিদের চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করতে পারেনি। ফলে একের পর এক ঘটনা ঘটছে, এর বার্তা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রিজভী সরকারের পদত্যাগ দাবি করে অবিলম্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
ওই সময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপিপন্থী রাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সরকার, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. কে বি এম মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল মনির, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন প্রমুখ।
গত ২৩ এপ্রিল সকাল পৌনে ৮টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের গলিতে অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তিনি বাসা থেকে ক্যাম্পাস যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় জেএমবি জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া জেএমবি সদস্য মাসকাওয়াত হাসান সাকিব ওরফে আবদুল্লাহ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শ. ম সাজু, রাজশাহী