রাবি শিক্ষক হত্যা : গ্রেপ্তার শিবির নেতার মৃত্যু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার শিবির নেতা হাফিজুর রহমান মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার শফিকুল ইসলাম হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।
জেল সুপার জানান, হাফিজুর রহমান আগে থেকেই রক্তস্বল্পতা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত মঙ্গলবার তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর পর থেকে তিনি হাসপাতালের প্রিজনসেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে আজ ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাফিজুরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান জেল সুপার শফিকুল ইসলাম।
অধ্যাপক রেজাউল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউস সাদিক জানান, আটক হাফিজুর রহমানকে গত ২৮ এপ্রিল দুপুরে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোকসেদা আজগর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিনই তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চার দিন রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
হাফিজুর রহমানের বড় ভাই হাবিবুর রহমান জানান, হাফিজুর রহমান থ্যালাসেমিয়ার রোগী ছিলেন। ডা. মাইনুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে প্রতি তিন মাস পর পর তাঁকে রক্ত দিতে হতো। চার দিন আগে তাঁকে রক্ত দেওয়ার কথা ছিল।
হাবিবুর বলেন, জেল কর্তৃপক্ষকে যথাসময়ে বিষয়টি জানিয়ে হাফিজুর রহমানকে ডা. মাইনুল ইসলামকে দেখিয়ে রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি।
হাবিবুর রহমানের দাবি, তিন মাস পরপর নিয়মিত রক্ত দিতে হতো, এমন অসুস্থ একজন রোগী হাফিজুর রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এর ফলে সে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর জেল কর্তৃপক্ষ এই অসুস্থতার সঠিক চিকিৎসা না করানোর ফলে চিকিৎসা অবহেলায় হাফিজুরের মৃত্যু হয়েছে।
তবে তাঁর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউস সাদিক ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার শফিকুল ইসলাম।
ডিবি পুলিশের ওসি জানান, রিমান্ডে হাফিজুর রহমানকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে সুস্থ অবস্থায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জেল সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, হাফিজুর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে যথাযথ চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর চিকিৎসায় কোনোরকম অবহেলা করা হয়নি।
অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহভাজন হিসেবে সবার আগে হাফিজুর রহমানকে আটক করেছিল পুলিশ। হাফিজুর নগরীর ছোটবন গ্রাম এলাকার হোসেন আলী মণ্ডল ও হালিমা বেগমের ছেলে। তিনি রাবির লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ছাড়া তিনি রাজশাহী মহানগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
হাফিজুরের বাবা হোসেন আলী মণ্ডলের দাবি, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এলাকার এক কথিত সাংবাদিক চক্রান্ত করে হাফিজুরকে অধ্যাপক রেজাউল হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
গত ২৩ এপ্রিল সকাল পৌনে ৮টার দিকে মহানগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের গলিতে অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তিনি বাসা থেকে ক্যাম্পাস যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের আসামি করে ওই দিন বিকেলে নিহতের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়।

শ. ম সাজু, রাজশাহী