ঝিনাইদহে বড় ভাই হত্যা মামলায় ভাই গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর গ্রামে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ছোট ভাই আজিবর রহমান মোহনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মোহনকে থানাহাজতে রাখা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে। এদিকে ময়নাতদন্তের জন্য নিহত মুজিবুর রহমান খোকনের (৫০) লাশ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, জনতার আক্রোশের মুখে তাঁরা সকাল থেকে বাড়ির কাছে ভিড়তে পারছিলেন না। ওই বাড়িতে নিজ ঘরে মোহন লুকিয়ে ছিলেন। প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তাঁরা। গ্রেপ্তার অভিযানের সময় মহেশপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশাফুর রহমান সঙ্গে ছিলেন বলে জানান ওসি।
এদিকে বিকেলে নিহতের ছেলে গনিউর রহমান ডলফিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি আরো বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া মোহন নিজেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দিয়ে থাকেন। আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য এলাকার মানুষ আগে থেকেই তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। নতুন করে ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তাই জনতাকে শান্ত করতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছে।’
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বড় ভাই খোকনের একটি আমবাগান বিক্রি করে দেন ছোট ভাই মোহন। আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেপারীরা আমপাড়ার জন্য বাগানে আসেন। খবর পেয়ে আম পাড়তে বাধা দেন খোকন। এ সময় ছোট ভাই মোহন ক্ষিপ্ত হয়ে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন খোকনকে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। খোকন মহেশপুর উপজেলার এসবিকে ইউনিয়নের ৩ নং বজরাপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ঘটনার পর থেকে বাড়ি ঘেরাও করে এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ঘাতকের বিচার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে।

মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ