রাজশাহীতে নির্বাচনী সহিংসতায় দুজন নিহত
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন নিহত ও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজনের মধ্যে একজনের নাম সিদ্দিকুর রহমান (৩০)। অপর ব্যক্তির (৪৫) পরিচয় জানা যায়নি। সিদ্দিকুরের বাড়ি আউচপাড়া ইউনিয়নের সারন্দি গ্রামে।
পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এম খুরশীদ হোসেন দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আওয়ামী লীগ কর্মী সিদ্দিকুর রহমান গুলিতে মারা গেছেন। তবে কার গুলিতে মারা গেছেন তা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। আর অজ্ঞাত ব্যক্তি ককটেল বিস্ফোরণের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ বিকেলে আউচপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার জান মোহাম্মদ ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলামের লোকজন মিছিলের প্রস্তুতি নেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে দুই পক্ষ ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জান মোহাম্মদের সমর্থকরা মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এর একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছোড়ে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা তখন বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। গুলি-ককটেল বিস্ফোরণের একপর্যায়ে সিদ্দিকুর রহমান ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হন অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি। সংঘর্ষে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ শনিবার বাগমারা উপজেলায় ইউপি নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশন দুদিন আগে এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করে।

শ. ম সাজু, রাজশাহী