শেরপুর-৩ আসনে তিন গুণ ভোটে বিজয়ী বিএনপির রুবেল
জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে তিনগুণ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল । বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১০ এপ্রিল সকাল ১১টায় সরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এক লাখ ৪১ হাজার ৫৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৫৬৩ ভোট।
এছাড়া কাচি মার্কার মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪০৩ ভোট।
শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পোস্টাল ব্যালট ছাড়া এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৫২ শতাংশ।
এ আসনে মোট ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৪ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ধাপে ধাপে ফলাফল সংগ্রহের পর তা ঘোষণা করা হয়।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ হয়। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বড় কোনো ধরনের ঘটনা ঘটেনি। আর জামায়াতের প্রার্থীর ভোট বর্জনের কথা আমাকে লিখিতভাবে জানাননি। তারা মৌখিকভাবে যা অভিযোগ করেছে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য জামায়াত ভোট বর্জনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু হয়েছে। জনগণ এ নির্বাচন নিয়ে আনন্দিত।
নির্বাচন অফিসের তথ্যে জানা গেছে, এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১৮ জন পর্যবেক্ষক, দুজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির তিনজন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর আটটি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য, ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১১৫০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এখানে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটারের জন্য ১২৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল।

কাকন রেজা, শেরপুর