‘গণতন্ত্র চুরি হয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে মানবাধিকার’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘আমরা যে উদ্দেশ্যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তা আজ ভূলুণ্ঠিত। দেশ আজ যেন কারাগার।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র চুরি হয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে মানবাধিকারের কথা। বই-পুস্তকে এসব থাকলেও বাস্তবে নেই।’
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘পাকিস্তান ও ভারতের মতো বাংলাদেশ চুক্তির মাধ্যমে স্বাধীন হয়নি। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, অনেক ত্যাগ ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। দয়া-দাক্ষিণ্য বা আলোচনার মাধ্যমে নয়, মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিকুণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বলেন, ‘লাল-সবুজের পতাকা কেনা হয়েছে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে। যাঁরা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাঁদের কাছে আমরা চিরঋণী।’
মেজর জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে এমাজউদ্দীন আহমদ দাবি করেন, ‘মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে দেশকে হানাদার বাহিনীমুক্ত করেছেন। ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছেন। তার আগে এ দেশ থেকে গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পরেই সব দলের সমন্বয়ে নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্রের রূপদান করেছেন। তিনি দেশের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।’
প্রবীণ এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরো বলেন, ‘জিয়া পরিবার গণতন্ত্রের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য খালেদা জিয়া আজ প্রায় দুই মাস ধরে অবরুদ্ধ। গণতন্ত্রের কথা বলতে হলে অবশ্যই জিয়া পরিবারের কথা আসবে।’
এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি অনেক দুর্বল। গণতন্ত্রের জন্য তারা জীবন দিতে সব সময়ই প্রস্তুত। বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি, মানুষকে বাকরুদ্ধ ও কারারুদ্ধ করে দেশকে কারাগারে রূপান্তর করা হয়েছে। খুন ও গুমের মাধ্যমে বিরোধীপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র চলছে।’
ক্ষমতাসীনদের সাবধান করে এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এ দেশের সাধারণ মানুষ সব সময় গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, সামনেও করবে। গণতন্ত্রের জন্য সাধারণ মানুষ সব সময়ই এগিয়ে ছিল, এগিয়ে থাকবে।’ বক্তব্যের শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘আমরা আশা করি, সরকার বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেবে।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খসরুজ্জামান, ঢাকা বারের সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী, চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাজহারুল অনোয়ার, শিল্পী বেবী নাজনীন, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, মির্জা আল মাহমুদ প্রমুখ।

মোঃ জাকের হোসেন (Md Zaker Hossain)