মানিকগঞ্জে গৃহবধূকে বালিশচাপায় হত্যা
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্য কৃষ্ণপুর গ্রামে লিতা আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর স্বজনদের ভাষ্য, গতকাল স্বামী মনোয়ার হোসেন (৩০) মুখে বালিশচাপা দিয়ে লিতাকে হত্যা করে। এর পরপরই পালিয়ে যায় মনোয়ার ও তার বাড়ির লোকজন।
মনোয়ার মধ্য কৃষ্ণপুর গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে। আর লিতা পার্শ্ববর্তী আটিগ্রাম এলাকার সদর উদ্দিন দেওয়ানের মেয়ে।
নিহতের দুলাভাই সাইদুর রহমান জানান, সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে মনোয়ারের সঙ্গে লিতার বিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের সংসারে জন্ম হয় রিফাত হোসেন (৬) ও মুন আক্তার (১০ মাস) নামের দুই সন্তান। কিছুদিন ধরে মনোয়ার তাঁর বড় ভাই নুরুল ইসলামের স্ত্রী হাসিনা আক্তারের (২৮) সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই পরকীয়া হাতেনাতে ধরেন লিতা। বিষয়টি উভয়ের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও জানাজানি হয়। এ নিয়ে মনোয়ারের সঙ্গে লিতার কলহ চলছিল।
এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যার দিকে মুনকে বুকের দুধ পান করাচ্ছিলেন লিতা। এ সময় পরকীয়ার বিষয়ে মনোয়ারের সঙ্গে লিতার কথাকাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে মুখে বালিশচাপা দিয়ে লিতাকে হত্যা করে মনোয়ার। এই দৃশ্য দেখে তাদের ছেলে রিফাত।
এরপর লাশ দুয়ারে ফেলে রেখে মনোয়ার ও তার বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। আর স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে রাত ১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
নিহতের বাবা সদর উদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, ‘মনোয়ার আমার মেয়েকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। আমার নাতি রিফাত তা দেখেছে। আর ওই এলাকায় তাদের লোকজন দিয়ে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করছে। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশুতোষ ভৌমিক জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুর ধরন নিশ্চিত হওয়া যাবে। সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআই আরো জানান, ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ির কেউ হত্যার অভিযোগ দিলেও তদন্তকাজ শুরু করা হবে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ