মানিকগঞ্জে এক ব্যক্তির ১০ বছরের কারাদণ্ড
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার খলিলপুর গ্রামে প্রতিবেশী গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও ছুরি দিয়ে জখমের দায়ে কাজী সেলিম হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হাছিনা রৌশন জাহান আসামির উপস্থিতিতে এই রায় দেন।
সেলিম ওই গ্রামের কাজী ইউসুফ আলীর ছেলে। এই মামলা বিচারাধীন অবস্থায় দুই বছর হাজতবাস করেছেন তিনি।
মামলার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বরাতে জানা যায়, ২০০৩ সালের ২৯ মার্চ রাতে ঘরে ঢুকে প্রতিবেশী এক গৃহবধূকে ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন সেলিম। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই গৃহবধূর চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসার আশঙ্কায় তাঁর মুখ চেপে ধরেন সেলিম। তারপরও ওই গৃহবধূ চিৎকার দিলে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান সেলিম।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। এ ঘটনায় সেলিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই গৃহবধূ। এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলায় হরিরামপুর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) হাশমত আলী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং যুক্তি-তর্ক শেষে ধার্য দিনে ওই রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই মামলা বিচারাধীন অবস্থায় সেলিম দুই বছর ১৮ দিন হাজতবাস করায় ওই সাজা থেকে তা বাদ দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন কৌঁসুলি এ কে এম নুরুল হুদা। আর আসামিপক্ষে ছিলেন হাসান জাফর ইমাম।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ