ভোমরা দিয়ে গ্রানাইট পাচারের অভিযোগে ৪ জন গ্রেপ্তার
জালিয়াতির মাধ্যমে আমদানিনিষিদ্ধ ৭৯ টন ভারতীয় গ্যালাক্সি গ্রানাইট পাথর বাংলাদেশে আনার পথে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে আটকের ১২ দিন পর চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ।
মঙ্গলবার চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মনিরুল ইসলাম ময়নাসহ অন্যদের জাল কাগজপত্র, ভুয়া সিল, কর্মকর্তাদের নামের সিল, ভুয়া এলসিসহ গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইনামুল হক। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন খোরশেদ আলম খুশী, মো. আসাদুল হক ও মো. মাহমুদুল হক।
বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরমান হোসেন সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের বসিরহাটের সাইফ এন্টারপ্রাইজ এই গ্রানাইট বাংলাদেশে রপ্তানি করে। ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দর পার করে বাংলাদেশের চারটি কাভার্ড ভ্যানে লোড দেওয়ার সময় তা ধরা পড়ে। সাড়ে ৭৮ মেট্রিক টন ওজনের এই গ্রানাইটের আমদানিকারক ঢাকার ২২ পুরানা পল্টনের এ কে ট্রেড লাইন লিমিটেড। সাতক্ষীরার ভোমরার মো. মনিরুল ইসলাম ময়না নামের একজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খুলনার ওভারসিজ ট্রেডিং কর্পোরেশনের পক্ষে জাল কাগজপত্র তৈরি করে তা বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর এলাকার মধ্যে বিজিবি সদস্যরা আটক করেন। পরে এলসি সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্রে জালিয়াতি ধরা পড়ে। এতে ভোমরার কাস্টমস কর্মকর্তা মাসুদ রানার সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হলেও তিনি এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। আটক গ্রানাইটের দাম ছয় কোটি ৬৫ লাখ বলে জানান তিনি। এমনকি ওভারসিস ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক ফিরোজা বেগমও এসব জালিয়াতি সম্পর্কে অবহিত নন।

তবে ফিরোজা বেগমের লাইসেন্স ব্যবহার করে ভোমরার মনিরুল ইসলাম ময়না নামের এক ব্যবসায়ী এই জাল জালিয়াতি করেছেন বলে বিজিবির কাছে গাড়ির চালক স্বীকার করেন। গ্রানাইট আটক হওয়ার পর থেকে মনিরুল ইসলাম ময়না গা ঢাকা দেন। পাচারের জন্য যে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ভ্যাট পরিশোধের কথা বলা হয়েছে তাও জাল বলে জানায় বিজিবি। এ ঘটনায় ময়নাসহ চার ব্যক্তির নামে মামলা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ ১২ দিন পর তাদের গ্রেপ্তার করল।
তবে ভোমরা কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরিফ আল আমিন জানান, পুরো বিষয়টি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে। এর সঙ্গে কাস্টমসের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরো জানান, ভোমরা বন্দর দিয়ে মার্বেল পাথর আমদানির অনুমতি থাকলেও গ্রানাইট পাথর আনার অনুমতি নেই।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা