খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তার নিয়ে বিদেশি চাপ নেই : স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার না করার জন্য বিদেশিদের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক জানতে চান, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে বিদেশি কোনো চাপ আছে কি না? জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য বিদেশি কোনো চাপ আমাদের কাছে নেই। আপনারা জানেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদেশি চাপে বিশ্বাস করেন না। তিনি অন্তত এ ব্যাপারে স্পষ্ট, তিনি চাপে কোনোদিন নতি স্বীকার করেননি। আজও তাঁর ওপরে কোনো চাপ নেই কিংবা নতি স্বীকার করেন নাই।’
‘আপনারা বলছেন, গ্রেপ্তার হচ্ছে না কেন। যে মামলাটির জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সেই মামলাটির জন্য আবার তাঁর আইনজীবীরা জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেটার প্রক্রিয়া চলছে এখনো। আমার মোট কথা, আইনের বাইরে কিছু করছি না। যেটা আইনসঙ্গত, সেটাই আমরা করব এবং করে যাব।’ যোগ করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ঢাকায় আগমন, তদন্ত কাজে সহযোগিতা, সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনা ইত্যাদি বিষয় নিয়েও কথা বলেন। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের এমন রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান করে একে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
‘আমরা শেয়ার করব’
অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পরপরই এফবিআই বাংলাদেশে চলে এসেছে অন্য হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায় না - সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আপনারা জানেন অভিজিৎ রায় কিন্তু বাংলাদেশি নন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এফবিআইয়ের একটি ইউনিট সব সময় আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে থাকে। আপনারা যে কথাটি বলেছেন, একদিনের মাথায় চলে আসল। তাদের কয়েক সদস্যবিশিষ্ট একটা ইউনিট এখানে থাকে, তারা কাজ করে। এবং অন্যান্য দেশেও আমাদের অ্যাম্বাসিতেও আমাদের এনএসআইও কিন্তু কাজ করছে সেটা আপনারা জানেন। সেই রকম একটি ইউনিট আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে কাজ করছে। তারাই প্রথম দিন কিংবা দ্বিতীয় দিন তাদের উদ্বেগের কথা বলছিল। আমাদের গোয়েন্দারা অবশ্যই তাদের কাজ করছেন, কোনো কাজে তারা ফেইলিওর হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে আপনারা বলবেন যে, সাগর-রুনিরটার এত দেরি হচ্ছে কেন। এটি ছাড়া আমার মনে হয় সব কাজই আমাদের গোয়েন্দারা কিন্তু সময়মতো করে দিয়েছেন।
সময়মতো আমাদের সব রহস্য উদঘাটন করে দিয়েছেন। যেহেতু সে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সেই জন্যই এফবিআই এসেছে। আমাদের বৈদেশিক মন্ত্রণালয় থেকে তাদের পারমিশন দেওয়া হয়েছে এবং তারা কাজ করবে। আমাদের কিছু জিজ্ঞাসার থাকলে জিজ্ঞাসা করবে। তাদের জানাব। আমরা শেয়ার করব। আমরাও চাই তাদের কাছে যদি কোনো তথ্য থাকে সেই তথ্য নিয়ে আমরা কাজ করব।’
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা সন্দেহভাজন তারা দ্রুত সরে যাচ্ছে এবং দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আমরা প্রায় শনাক্ত করেছি। আমরা এখানে উদঘাটন করব। ফারাবীকে তো অ্যারেস্ট করেছি। আরেকজনকে আমরা ধরেছি। সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তিকে আমরা খোঁজ করছি। তাদের ধরতে পারলেই আমরা সমস্ত কিছু উদঘাটন করতে পারব, এ ব্যাপারে আমরা সুনিশ্চিত। এফবিআইয়ের কথাটা বললেন, এখানে একটি ইউনিট থাকে সেটা আমি বলেছি এবং খুব সম্ভবত তাদের এক-দুজন এখানে এসে যোগ দিয়েছেন।’
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যে দুজন জড়িত ছিল তাদের সম্পর্কে কিছু জানতে পেরেছেন কিনা - এর উত্তরে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমি কিন্তু সেটাই বলেছি, আমরা সন্দেহভাজনদের লিস্ট তৈরি করেছি। তাদের ধরার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। সন্দেহভাজনদের যখন ধরতে পারব, আমরা রহস্য উদঘাটন করতে পারব। আমরা কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই একজন জয়েন্ট কমিশনার পুলিশকে দায়িত্ব দিয়েছি তদন্তের জন্য। তাঁকে সহযোগিতা করার জন্য আরো সাতজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই পুলিশ অফিসার, দায়িত্ববান পুলিশ অফিসার। আমরা তাঁদের তদন্তের আগে বলতে পারছি না এখানে অবহেলা ছিল কিনা, গাফিলতি ছিল কিনা। আমরা মনে করছি যারা এখানে এই কাজটি করেছে তারা অত্যন্ত পরিকল্পনামাফিক কাজটি করেছে। কাজেই তারা যেখানে সরে গেছে এবং যেটা করেছে পরিকল্পনামাফিক করেছে। যেভাবেই করুক আমরা তাদের ধরা ফেলব।’
ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসি ক্যামেরাও ছিল তাহলে কেন হত্যাকারীদের ধরা যাচ্ছে না এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেগুলোকে আমরা দেখছি, আমলে নিয়েছি। আর আমি তো বলেছি, যারা এই কাজটি করেছে আমার কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, আমি যতটুকু তথ্য শুনেছি, তারা বেশ কয়েকজন আসছিল। তারা এমনভাবে অবস্থান নিয়েছিল, তারা এমনভাবে ভিকটিমের চতুর্দিকে ছিল এটা অনেকেরই সন্দেহ হয়নি যে তাকে খুন করবে। এ রকমই আমি শুনেছি। আমি অবশ্য দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে এসে শুনেছি। যতটুকু শুনেছি ততটুকু আপনাদের আলোকপাত করছি। আমার মনে হয়, এখন এফবিআই যুক্ত হয়েছে। এফবিআইয়ের কাছে যদি কোনো তথ্য থাকে, সেটাও আমরা নেব। সে জন্যই বলছি আমাদের সবকিছু এগুচ্ছে ঠিকমতো। আমরা বের করতে পারব।’
‘খালি বাসে আগুন দিচ্ছে’
চলমান হরতাল-অবরোধে নাশকতা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, খালি বাসের ভেতর আগুন ধরিয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা অনেক দিন ধরেই হচ্ছে। যেগুলোতে আগুন ধরিয়েছে, তার অধিকাংশ খালি বাস পার্ক করা ছিল, সেগুলোর ওপর ধরিয়ে দিয়েছে। সেই ধরনের প্রচেষ্টা এখানে হয়েছে একটা না দুইটা বাস এখানে পুড়িয়ে দিয়েছে। এবং যারা পুড়িয়েছে তাদেরকে ধরা হয়েছে।’

অনলাইন ডেস্ক