উঠান বৈঠক আর ভোটারদের দ্বারে দ্বারে চলছে গণসংযোগ
প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত কুমিল্লা পৌরসভার অলিগলি। কাকডাকা ভোরে শুরু হয় গণসংযোগ, তার পর সারা দিন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি আর উঠান বৈঠকে চলে জনসংযোগ। ১৩ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পরপরই মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা প্রচারকাজ শুরু করেন।
আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল খায়ের ও ২০-দলীয় জোটের বিএনপি প্রার্থী শাহনাজ আক্তার যে যাঁর মতো দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাদক সেবন নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা সংস্কার আর লাকসাম পৌরসভাকে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রতি দিয়ে লাকসাম পৌরসভার পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ আর উঠান বৈঠক করে ভোটারদের ভোট তাঁর পক্ষে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী শাহনাজ আক্তার।
এই সরকারের আমলে নিখোঁজ লাকসাম বিএনপির পৌর সভাপতি হুমায়ুন পারভেজের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সরকারি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান।
সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের প্রভাব না থাকলে বিএনপি প্রার্থী শাহনাজ আক্তার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল খায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারকাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কাকডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের মন জয় করতে বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন।
আবুল খায়ের জানান, তিনি নির্বাচিত হয়ে লাকসাম পৌর এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি করবেন। তিনি বলেন, ‘নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক; নৌকা জিতবে উন্নয়নের স্বার্থে।’
তবে ভোটারদের প্রত্যাশা, এই পৌর এলাকাকে যাঁরা সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার মতো নেতৃত্ব দেবেন এমন প্রার্থীকে দেখেশুনে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন তাঁরা।
কুমিল্লার লাকসাম প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, প্রায় তিন যুগ আগে এই পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হলেও এখন পর্যন্ত রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আর এই অবহেলিত পৌরসভাকে আধুনিকে রূপান্তরিত করতে নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন।
এই পৌর নির্বাচনে ৪১ হাজার ৭২৯ ভোটে তিনজন মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নয়টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আটজনসহ মোট ৩৪ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মো. জালাল উদ্দিন, কুমিল্লা