উড়ালপথ যানজটে নিরসনে ভূমিকা রাখবে না
চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন লালখানবাজার উড়ালপথ (ফ্লাইওভার) যানজট নিরসনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে মনে করেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম। সংগঠনটির প্রকৌশলীদের অভিমত, এ উড়ালপথ বিমানবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলে ভবিষ্যতে যান চলাচলে সব পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।
আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংগঠনটির এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিমত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বক্তব্য দেন ফোরামের সভাপতি ড. সেকান্দার খান, প্রকোশলী জেরিনা হোসেন ও এ বি এম আবুল বাসেত।
প্রকৌশলী জেরিনা হোসেন বলেন, সারা বিশ্বে নগরের ভিতরে উড়ালপথ তৈরিতে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে। উড়ালপথ একটা অন্য জিনিস, যেটা দূরপাল্লার বা অন্যান্য জায়গায় যোগাযোগের সংযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এখন নগরীতে যে ফুটপাত আছে সেগুলোকে আমি ফুটপাত বলি না। কারণ, চার ফুটের ফুটপাত কোনো ফুটপাত নয়। বাস চলাচল করতে হলে ওই ফুটপাতগুলোকে অনেক বেশি চওড়া করতে হবে।
জেরিনা হোসেন প্রশ্ন তুলেন, উড়ালপথ হলে সেখানে লোকজন চলাচল করবে কীভাবে? আপনি একবার চিন্তা করুন, ষোলশহর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত যদি মানুষ হেঁটে চলাচল করতে না পারে তাহলে এই পরিবহন ব্যবস্থা কার জন্য? একজন নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে আমি চিন্তিত। এটা এক সময় পথচারীদের জন্য এতটা সংকট নিয়ে আসবে যা কল্পনাও করা যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বহদ্দারহাট উড়ালপথের অপরিকল্পিত ও অকার্যকর কারিগরি দিক বিশ্লেষণ না করে কোনোরকম ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়াই মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ শুরু হয়েছে। একইভাবে বিমানবন্দর পর্যন্ত উড়ালপথ সম্প্রসারণ করা হলে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) বা মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) করার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ কিলোমিটার উড়াল সেতু না করে নগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে বারেক বিল্ডিং পর্যন্ত ইনার রিং রোড, কর্ণফুলী নদীর ওপর চার লেনের সেতু, মাস্টার প্ল্যানে থাকা আউটার রিং রোড নির্মাণ, নাজিরহাট ও দোহাজারী পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন চালু করার দাবি জানান বক্তারা।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম