বিয়ের দাবিতে ১১ দিন ধরে ‘প্রেমিকের’ বাড়িতে স্কুলছাত্রী
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের বহড়াবাড়ি গ্রামে বিয়ের দাবিতে ১১ দিন ধরে এক যুবকের বাড়িতে অবস্থান করছেন নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। ওই যুবককে নিজের প্রেমিক বলে দাবি করেছে ওই কিশোরী। বাড়িতে তাকে দেখেই ‘প্রেমিক’ ও তাঁর পরিবারের লোকজন সটকে পড়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মেয়ের অভিভাবকরা বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করলেও মনিরসহ তাঁর পরিবারের কোনো সাড়া মেলেনি। ওই বাড়িতেই অবস্থান করায় মেয়েটিকে খাবার দেওয়াসহ তার দেখভাল করছেন প্রতিবেশীরা। মনিরের সঙ্গে বিয়ে না হলে আত্মহত্যা করবে বলেও হুমকি দিচ্ছে ওই স্কুলছাত্রী।
বহড়াবাড়ি গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মনির গাজীপুরের একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করেন। আর পাশের তালুকনগর গ্রামের ওই মেয়েটি স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে।
আজ শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ওই স্কুলছাত্রী শাড়ি কাপড় পরে মনিরের বাড়ির চৌচালা টিনের ঘরের বারান্দার চেয়ারে বসে আছে। সাংবাদিক এসেছে শুনে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীরা। মনির ও পরিবারের কেউ নেই বাড়িতে। ওই স্কুলছাত্রী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রকাশ্যেই ঘটনার আদ্যোপ্রান্ত নিয়ে কথা হয়।
ওই স্কুলছাত্রী জানায়, এক ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে সে ছোট। তিন বছর আগে তাদের বাবা মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম তার ভাই। বাকি বোনদের বিয়ে হওয়ায় সংসারে এখন মা-ভাই ও সে। বিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে পরিচয়ের মাধ্যমে চার বছর আগে মনিরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। বছর খানেক আগে বিয়ের আশ্বাসে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন মনির। এক বছর আগে মনির এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে গাজীপুরের একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ নেন। মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ছুটিতে এসে তাদের বাড়িতে গিয়েও মেলামেশা করতেন মনির। গত রোজার ঈদের পরে (তিন মাস আগে) মেয়েটিকে নিয়ে গাজীপুরের একটি পোশাক তৈরির কারখানায় হেলপার পদে কাজ দেন মনির। বিয়ে না করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সেখানে বাসা নেন তাঁরা। সেখানে থাকার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর মনিরের কথামতো বিয়ের দাবিতে বাড়িতে এসে ওঠেন ওই স্কুলছাত্রী। কিন্তু আজ পর্যন্ত মনিরের সঙ্গে তার দেখা বা কথা হয়নি। বরং বাড়ির লোকজনও সটকে পড়েছে।
মেয়েটি জানায়, প্রতিবেশীরা পরনের কাপড় ও খাবার দিচ্ছেন। মনিরের সঙ্গে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত সে ওই বাড়িতেই অবস্থান করবে। অন্যথায় আত্মহত্যা করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই বলেও হুমকি দেয় সে।
প্রতিবেশী আনোয়ার হক ও মইনাল হক জানান, বিয়ের দাবিতে মেয়েটি বাড়িতে এসে উঠেছে। তা দেখে মনিরের বাড়ির লোকজন পালিয়েছে। মেয়েটি যদি না খেয়ে ও কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটায়, তাহলে দায়ী কে হবে। এ জন্য তাকে খাবার ও পরনের কাপড় এবং চোখে চোখেও রাখা হচ্ছে। বিষয়টির দ্রুত সুষ্ঠু ও সঠিক সুরাহা চান তাঁরা।
জানতে চাইলে মেয়েটির ভগ্নিপতি জানান, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। তাঁরা সঠিক ব্যবস্থা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় কলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, উভয় পরিবারের লোকজন নিয়ে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করলেও মনিরের পরিবারের কোনো সাড়া মেলেনি। তারা মেয়েটিকে বাড়ি রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এ ঘটনার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে শিবালয় সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হারুণ-অর রশিদ জানান, মনিরের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ