গোপালগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় মেহেদী হাসান মোল্লা (১৭) নামে এক কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পিঙ্গুলিয়া গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
মেহেদী ওই গ্রামের মহসিন মোল্লার ছেলে। সে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার আলফাডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ শ্রেণিতে পড়ত। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মেহেদীর মেজো ভাই লিংকন মোল্লা বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে মেহেদী বাড়ি থেকে বের হয়। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর গ্রামের লাভলু মোল্লার ছেলে দুর্জয় মোল্লা তার খোঁজে আমাদের বাড়িতে আসে। এইমাত্র বের হয়েছে বলার পর সে চলে যায়। এরপর রাত্রে বাড়ি ফিরে না আসায় আমরা আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মেহেদীর খোঁজ করি। কিন্তু কোথাও না পেয়ে রাত ৯টার দিকে কাশিয়ানী থানায় জিডি করতে যাই। কিন্তু ওসি আরো খোঁজখবর নিয়ে আজ সকালে যেতে বলেন। সকালেই ওর লাশ পাওয়া গেছে বলে খবর পাই।’
লিংকন আরো বলেন, ‘কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে তা বলতে পারছি না। তবে বড় ভাই প্রিন্স মোল্লা এক বছর আগে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দো গ্রামের নিলু শেখের মেয়ে পলিকে বিয়ে করেছেন। তাঁদের বিয়েতে আমরা রাজি না থাকায় নিলু শেখ ও তাঁর নিকট আত্মীয় ইমরানের সঙ্গেও আমাদের পরিবারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ ছাড়া বর্ণা নামের এক মেয়ের সঙ্গে মেহেদীর সম্পর্কের কথা শুনেছি। এ কারণে মেহেদীর ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। পিঙ্গুলিয়া গ্রামের আহাদ মোল্লা ও নজরুল শেখের সঙ্গে জমি নিয়ে আমাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে।’
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেহেদীদের বাড়ির পাশে একটি ধানক্ষেতে তার লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। লাশের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।
সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। তবে মামলা হলে গ্রেপ্তারে প্রচেষ্টা চালানো হবে।

মাহবুব হোসেন সারমাত, গোপালগঞ্জ