কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ১৩ বছর আজ
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ১৩ বছর পূর্তি আজ। ২০০২ সালের এই দিনে সাতক্ষীরা থেকে যশোর যাওয়ার পথে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা হামলার শিকার হন। এতে তাঁর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হন তাঁর সফরসঙ্গীরাও।
এদিকে, এ ঘটনার পর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড না হওয়ায় আদালতে মামলা করেন কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মোসলেমউদ্দিন। সে মামলাও খারিজ হয়ে যায়। অবশেষে এক যুগ পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়।
সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ওসমান গনি জানান, এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। পুলিশ সব মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে। প্রতিটি মামলায় আসামি হয়েছেন ৫০ জন। এর একটি মামলার অভিযোগ গঠন হয়েছে।
২০০২ সালের ২৬ আগস্ট কলারোয়ার হিজলদীতে মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমানের স্ত্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি মাহফুজা খাতুন গণধর্ষণের শিকার হয়ে সাতক্ষীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৩০ আগস্ট বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা খুলনা সফরের সময় এ খবর পেয়ে তাঁকে দেখতে সাতক্ষীরা যান।
হাসপাতালে মাহফুজার সঙ্গে কথা বলে শেখ হাসিনা হাসপাতাল মোড়ে এক পথসভায় অংশ নেন। সেখান থেকে তিনি যশোরের উদ্দেশে সাতক্ষীরা ছাড়েন।
পথে কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরের ওপর গুলি ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি গাড়ি থেকে বেরিয়ে হামলাকারীদের কাছে জানতে চান, ‘কী চাও তোমরা?’ তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় তাঁর গাড়ির পতাকার স্ট্যান্ড ভেঙে যায়। কয়েকজন সফরসঙ্গীও আহত হন। তাঁর সঙ্গে থাকা সাতক্ষীরার ১২ সাংবাদিক আক্রান্ত ও দুই ঘণ্টা কলারোয়া থানায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
ঘটনার প্রতিবাদে ১ সেপ্টেম্বর সারা দেশে আওয়ামী লীগের ডাকে হরতাল পালিত হয়। সে সময় সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু ও সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবীব সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে কলারোয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
একই বছর ২ সেপ্টেম্বর কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেমউদ্দিন ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০/৭৫ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ দিলে ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর কলারোয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া ঘটনা মিথ্যা বলে আদালতে প্রতিবেদন দেন। ২০০৪ সালের ২২ জানুয়ারি বাদী মোসলেমউদ্দিন পুলিশ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন জানালে তাও খারিজ হয়ে যায়। এ আদেশের বিরুদ্ধে তিনি সে বছর ১১ এপ্রিল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পুনর্বিবেচনা মামলা করেন। ২২ এপ্রিল শুনানি শেষে সেটাও খারিজ হয়ে যায়। একই বছরের ৪ আগস্ট বাদী এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই বিচারক নিম্ন আদালতের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু করারও নির্দেশ দেন। এ আদেশের কপি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সাতক্ষীরা আদালতে পৌঁছায়।
এদিকে, সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিমের নির্দেশ অনুযায়ী কলারোয়া থানার ওসি (তদন্ত) পুলিশ পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম মামলা তিনটি তদন্ত করে প্রতিটিতে ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবীব, সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, কলারোয়া পৌর মেয়র মো. আকতারুজ্জামান, কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রকিব, যুগিখালী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, যুবদল সভাপতি আশরাফ হোসেন, সম্পাদক কাদের বাচ্চুসহ ৫০ জন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।

সুভাষ চৌধুরী, সাতক্ষীরা