তিন শর্তে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জামিন
লন্ডনে অর্থপাচারের অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তিন শর্তে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
শর্তগুলো হলো, তাঁর পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে, তিনি বিদেশে যেতে হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে, এ ছাড়া লন্ডনের ব্যাংকে পাচার করা টাকা স্থানান্তর করা যাবে না।
আজ বুধবার এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরি ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘অর্থপাচারের মামলায় খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রায় দেড় বছর ধরে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাঁকে তিনটি শর্তে জামিন দেওয়া হলো। আজ দুদকের মামলায় জামিন হওয়ায় তাঁর মুক্তি পেতে আর কোনো বাধা নেই। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।’
দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে তিনটি শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে, তিনি বিদেশে যেতে হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে, এ ছাড়া লন্ডনের ওই ব্যাংকের টাকা ট্রান্সফার করা যাবে না।
মামলার বিবরণে জানা যায়, যুক্তরাজ্যে মোট ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা পাচারের অভিযোগে ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় একই বছরের ১২ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় খন্দকার মোশাররফকে গুলশানের তাঁর নিজ বাসা থেকে আটক করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, খন্দকার মোশাররফ ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে তাঁর নিজের ও স্ত্রী বিলকিস আক্তারের সাথে যৌথ নামে আট লাখ চার হাজার ১৪২ ব্রিটিশ পাউন্ড পাচার করেছেন। যা বাংলাদেশি টাকায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা। এ টাকা তিনি বিভিন্ন সময় ১০৮৪৯২ নম্বরের অ্যাকাউন্ডে ফিক্সড টার্ম ডিপোজিট হিসেবে জমা করেন। দুদকের অনুসন্ধানে মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘিত হওয়ায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন’ ২০০২-এর ১৩ ধারা এবং ২০০৯ ও ২০১২-এর ৪ ধারায়
মানি লন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করা হয় ।

জাকের হোসেন