নবজাতক হত্যায় আদালতে বাবার স্বীকারোক্তি
সাভারে ২৫ দিন বয়সী নবজাতক হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বাবা ফজলুল হক। আজ বুধবার দুপুরে প্রথম শ্রেণির বিচারিক হাকিম শাহিনুর রহমানের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ফজলুল। এর আগে সকালে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাভার মডেল থানার হাজত থেকে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার ব্যাপারে পুলিশের কাছে আগে থেকেই ইচ্ছা প্রকাশ করায় আসামিকে হেফাজতে (রিমান্ডে) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান।
ফজলুল হকের বরাত দিয়ে আদালতের ওই সূত্র জানায়, কারো প্ররোচনায় কিংবা সহযোগিতায় নয়, নিজেই পরিকল্পনা করে হত্যা করেছেন ২৫ দিন বয়সী শিশুটিকে। বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রীর মতো নবজাতক সন্তানটিও প্রতিবন্ধী হতে পারে, এই আশঙ্কায় শিশুটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর অংশ হিসেবে গত সোমবার ফজরের আজানের পরপর মায়ের কোল থেকে ঘুমন্ত শিশুটিকে তুলে হাসপাতালের সাততলা ভবনের ৭১৮ নম্বর কেবিন থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করেন। পরে ঘটনার দায় শিশুটির নানির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে ফজলু আদালতকে জানান।
গত সোমবার ভোরে সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। রক্তে সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত চারদিন বয়সী শিশুটিকে গত ৬ জুলাই এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার শেখ রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘হতাশা থেকে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম হতে পারে। যেহেতু তিনি পেশায় যানচালক, এর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না, কোনো মাদকাসক্তির বিষয় আছে কি না এ বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।’

জাহিদুর রহমান