প্রশ্নবিদ্ধ জামিন!
প্রতারণার মাধ্যমে ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি মামলায় পলাতক দুই আসামির জামিন দেওয়া নিয়ে আদালতপাড়ায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, আসামিরা আজ সোমবার সকালে আত্মসমর্পণ করতে প্রচলিত পদ্ধতি ভেঙে তড়িঘড়ি করে জামিন আবেদন করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, পুলিশের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন কার্যালয়ে জামিনের আবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা জমা না দিয়ে আদালতের বিচারক এজলাসে উঠার সঙ্গে সঙ্গে জামিন আবেদন জমা দেন এবং আসামিপক্ষ প্রথম শুনানি করে জামিন হাসিল করেছেন।
এমনকি বাদীপক্ষের আইনজীবীদের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করার পর্যাপ্ত পরিমাণ শুনানি করার সুযোগ দেননি ঢাকার ১৭ নম্বর মহানগর হাকিম মো. মারুফ হোসেন। এরপরে আসামিরা জামিননামা আদালতে দাখিল না করে দ্রুত এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন।
মামলার আসামিরা হলেন রাজধানীর বারিধারার কালাচাঁদপুরের আনোয়ার হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী কাজী তাহেরা হোসাইন তিন্নি।
এদিকে আসামিদের জামিন নেওয়ার পর বাদীপক্ষ থেকে ভুয়া আসামি আত্মসমর্পণের বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে বিকাল ৪টার সময় মূল আসামিদের হাজির করা হয়।
জামিনের এ আদেশে বাদীর আইনজীবী মো মোস্তফা কামাল এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পায়নি। আসামিদের বিরুদ্ধে ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও বিচারক জামিন দিয়েছেন। অথচ এর চেয়েও কম অভিযোগের মামলায় এই বিচারক জামিন দেন না।’
এর আগে শুনানিতে বাদীপক্ষের অপর আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মনসুর রিপন আদালতকে বলেন, ‘নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জামিনের দরখাস্ত মাননীয় আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি এবং বাদীপক্ষকে জামিন বিরোধিতার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি যা প্রচলিত আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’
শুনানির একপর্যায়ে মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন আসামিদের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জামিননামা দাখিল না করে আসামিকে আদালত থেকে নিজেদের কাস্টডিতে নিয়ে গিয়ে ঠিক কাজ করেননি।’ তাঁর এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের আইনজীবী আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা একটি আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সদস্য। এরা ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া রাজধানীর বারিধারা এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের স্ত্রী ও মেয়েদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় গত ১৭ জুন বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন ব্যবসায়ী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাদী সালাহউদ্দিনের স্ত্রীর কাছ থেকে আসামিরা আমদানি রপ্তানিসহ আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিকল্পনাসহ অতি আকর্ষণীয় প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ছয় লাখ টাকা ও পরে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা