‘পুলিশ আসামিদের থেকে সুবিধা নিয়ে মামলা ধামাচাপা দিয়েছে’
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় শিশু জুনায়েদ ‘হত্যা’র ঘটনায় ‘আসামিদের’ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মামলাটি ধামাপাচা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুর মা। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে সদরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শিশুর মা আছিয়া বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আছিয়া বেগম বলেন, ‘সদরপুর উপজেলার চরমোনাইর ইউনিয়নের ইসমাইল মাতুব্বরের কান্দি গ্রামের দিলু সাকুব্বর (৪০) পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিশু জুনায়েদকে হত্যা করে ডোবার মধ্যে ফেলে দেয়। তার লাশ গত বছরের ১৫ নভেম্বর উদ্ধার করা হয়। এরপর ১৯ নভেম্বর সদরপুর থানায় আমি একটি মামলা করি। সেই মামলায় তদন্তভার পড়ে সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনায়েত হোসেনের ওপর। প্রাথমিকভাবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং আরো রিমান্ড প্রয়োজন, এ মন্তব্য করে কোর্টে রিপোর্ট পাঠায়। এরপর গত ১৫ জুন রহস্যজনকভাবে তড়িঘড়ি করে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ।’
‘আমার ছেলের হত্যার তদন্তে মামলার আসামি পক্ষের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এনায়েত হোসেন হত্যা মামলাটি তড়িঘড়ি করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।’

আছিয়া বেগম আরো বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দিলু মাতুব্বর, তার স্ত্রী মাকসুদা ও ছোটভাই বেলাল মাতুব্বর আমার শিশু ছেলেকে হত্যা করে। আমি ওই তিনজনকে আসামি করে সদরপুর থানায় মামলা করতে যাই। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, দিলু মাতুব্বরকে একা আসামি করতে। পরে দিলুকে রিমান্ডে নিয়ে অন্য আসামিদের নাম বের করা যাবে। আমাদের ধারণা, ওই তিন আসামির কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে পুলিশ মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পুলিশ আগে থেকে পাঁয়তারা করে আসছিল।’
সংবাদ সম্মেলনে জুনায়েদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান আছিয়া বেগম।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে জুনায়েদের হত্যার বিচার দাবিতে সদরপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে পরিবারের স্বজন ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। এ সময় বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুল খালাসী, শহিদ মেম্বার, কামাল হোসেন হোসেন ও কোহিনূর বেগম।
গত বছরের ১৫ নভেম্বর শিশু জুনায়েদকে হত্যা করে লাশটি পুকুরে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় দিলু মাতব্বরকে আসামি করে সদরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আছিয়া বেগম।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর