ড্রেজারের সঙ্গে কার্গোর ধাক্কা, লাখ টাকা জরিমানা
মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলে ড্রেজারের সঙ্গে কার্গো জাহাজের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মধ্যস্থতায় এ সমঝোতা করা হয়।
অন্য সময়ে যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য চ্যানেল দিয়ে নৌযান চলাচলের সময় ড্রেজার ও পাইপ মূল চ্যানেলের নিরাপদ দূরত্বে রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেল দিয়ে ‘এমভি গালফ-০৭’ নামক একটি কার্গো জাহাজ যাচ্ছিল। এ সময় চ্যানেলের রণবিজয়পুর এলাকায় খননকাজে নিয়োজিত ড্রেজার মাতৃবাংলার সঙ্গে ধাক্কা লাগে কার্গোর। এ ঘটনায় ড্রেজারের লোকজন কার্গোটিকে আটক করে পাইলট, মাস্টার ও কর্মচারীদের মারধর করেন। একই সঙ্গে জাহাজের গ্লাসসহ অন্য মালামাল ভাঙচুর করা হয়। কার্গোর চালক ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রামপাল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেকের নির্দেশে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গতকাল রোববার বিকেলে কালীগঞ্জ বাজারে বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকে আরো ছিলেন রামপাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তুষার কুমার পাল, রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলায়েত হোসেন, বাঁশতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. দিদার এ আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রব, ড্রেজার ও কার্গোর স্টাফরা।
ওই বৈঠকে আহতদের চিকিৎসা ও জাহাজে ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই লাখ ২২ হাজার টাকা দাবি করেন কার্গো স্টাফরা। পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় ড্রেজার স্টাফদের।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তুষার কুমার পাল বলেন, কার্গোর স্টাফদের চিকিৎসা ও ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ বাবদ এক লাখ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রব বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে যাতে আর এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সব ড্রেজারকে নৌযান চলাচলের সময় মূল চ্যানেল ফাঁকা রেখে নিরাপদে ড্রেজার ও পাইপ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা আর ঘটবে না।’

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা