মেধাবী স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, শিক্ষকের বিচার দাবি
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী হিরামনি তিশার মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি তোলে। এ সময় বক্তব্য দেয় স্কুলের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন, মামুন মুন্সী, রনি আহমেদ, বিপ্লব পোদ্দারসহ অনেকে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হিরামনি তিশা ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিল। কোনো ক্লাসেই সে প্রথম হয়েছে। হিরামনির বাবা মনিরুজ্জামান একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি তাঁর মেয়েকে পড়ালেখা করিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। ফলে শত কষ্টের মধ্যেও তিনি তাঁর মেয়েকে পড়ালেখা করাচ্ছিলেন। সম্প্রতি হিরামনির স্কুল এবং গৃহশিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সময় তাকে প্রেমের প্রস্তাবসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি নিয়ে হিরামনি তার বান্ধবীদের ছাড়া কাউকেই কিছু বলেনি। গত পরশু রাতে স্কুলশিক্ষক আবুল কালামের স্ত্রী মাহমুদা হিরামণিদের বাসায় গিয়ে তাকে অপমান করেন। এতে লজ্জা আর অপমানে হিরামণি আত্মহত্যা করে। রাতে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তিশার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের নামে মামলা করা হয়েছে।
আলগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. কাউসার ভূইয়া জানান, স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ত হিরামনি তিশা। স্কুলশিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অপবাদ এবং তাঁর স্ত্রীর লাঞ্ছনা সইতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে সে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন জানান, মেধাবী ওই ছাত্রীর অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আত্মহত্যার সঙ্গে শিক্ষক (আবুল কালাম) জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে এরই মধ্যে বিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মিরাজ হোসেন বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর