শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্কের অপবাদ, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা!
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অপবাদ সইতে না পেরে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীর বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় লোকজন।
আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাউসার ভূইয়া জানান, স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ত হিরামনি তিশা। স্কুলশিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অপবাদ এবং তাঁর স্ত্রীর লাঞ্ছনা সইতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে সে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হিরামনি ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিল। কোনো ক্লাসেই সে প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হয়নি। হিরামনির বাবা মনিরুজ্জামান ক্ষুদ্র একজন ব্যবসায়ী। তিনি তাঁর মেয়েকে পড়ালেখা করিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। ফলে শত কষ্টের মধ্যেও তিনি তাঁর মেয়েকে পড়ালেখা করাচ্ছিলেন। সম্প্রতি হিরামনির স্কুল এবং গৃহশিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সময় তাকে প্রেমের প্রস্তাবসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি নিয়ে হিরামনি তার বান্ধবীদের ছাড়া কাউকেই কিছু বলেনি। গতকাল রাতে স্কুলশিক্ষক আবুল কালামের স্ত্রী মাহমুদা হিরামনিদের বাসায় গিয়ে তাকে অপমান করেন। এতে লজ্জা আর অপমানে হিরামনি আত্মহত্যা করে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন জানান, মেধাবী ওই শিক্ষার্থীর অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আত্মহত্যার সঙ্গে শিক্ষক জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পীযূষ জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মিরাজ হোসেন বলেন, মেধাবী ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে, আজ শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রীর মৃত্যুর খবরে স্বজন ও বিদ্যালয়ের সহপাঠীদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। তারা কিছুতেই ছাত্রীর এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছে না। তারা সবাই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এদিকে, ছাত্রীর মৃত্যুর খবরে ওই শিক্ষক তাঁর পরিবার নিয়ে ঘা ঢাকা দিয়েছেন।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর