শৌচাগার সমস্যা, ৪০ ভাগ ছাত্রী স্কুল যাওয়া বন্ধ রাখে
বাংলাদেশে স্কুলগামী ৪০ শতাংশ কিশোরী প্রতি মাসে গড়ে তিনদিন ক্লাসে যায় না। এর কারণ ছাত্রীরা ভালো শৌচাগার পায় না। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিবিআরবি) এক গবেষণা এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আইসিডিডিআরবির গবেষণায় পাওয়া গেছে, ঋতুস্রাব বিষয়ে সাধারণ শিক্ষা ও ধারণার অভাবে বাংলাদেশে মেয়েদের চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থা ওয়াটারএইড বাংলাদেশে এতে সহায়তা করেছে।
আইডিডিআরবির জরিপে পাওয়া তথ্যমতে, এ মুহূর্তে ৪৫ শতাংশের বেশি স্কুলের শৌচাগার বন্ধ রয়েছে। তবে সরকার এরই মধ্যে স্কুলের শৌচাগারের মান উন্নয়ন করার নির্দেশনা দিয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় ছাত্রীদের জন্য পৃথক শৌচাগার নির্মাণের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা, স্কুল কমিটি ও শিক্ষকদের বলা হয়েছে। শৌচাগারে সাবান, পানি, ময়লার পাত্র রাখার কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋতুস্রাব নিয়ে মেয়েদের সচেতন করতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বলা হয়েছে।
আইসিডিডিআরবির গবেষক মাহবুব উল আলম বলেছেন, সরকারের এই অঙ্গীকার ও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা ঋতুস্রাব নিয়ে ধারণা বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ঋতুস্রাব নিয়ে এখনো কুসংস্কার আছে, তবে সরকার যে ভাষা ব্যবহার করেছে তা গ্রহণে নেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।’
আইসিডিডিআরবির গবেষক বলেন, ‘ঋতুস্রাব সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়টিও ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেমন ঋতুস্রাবের কাপড় মেয়েরা উন্মুক্ত জায়গায় শুকাতে চায় না, অথবা সেগুলো যথাযথভাবে রাখতে চায় না, কারণ এটা লজ্জাজনক। স্কুলে (শৌচাগার) সুবিধা ও ঋতুস্রাব নিয়ে ধারণা এবং মেয়েদের স্কুলে অনুপস্থিতির সঙ্গে স্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।’
মাহবুব উল আলম জানান, জ্ঞান বৃদ্ধি করে এবং এটা গ্রহণযোগ্য করে তুলে স্কুলে অনুপস্থিতির বিষয়টি মীমাংসা করা সহজ হবে।
জরিপটির নেতৃত্ব দেন আইসিডিডিআরবির সাবেক পানি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা দলের প্রধান ড. লিন ইউনিকম্ব, সংক্রামক রোগ কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওষুধশাস্ত্রের প্রফেসর ড. স্টিভ লুবি।

অনলাইন ডেস্ক