ফরিদপুর ছাড়তে চান না চর পাচুড়িয়াবাসী
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরপাচুড়িয়া গ্রামের একটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রতি উচ্চ আদালতের দেওয়া এক রায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে গ্রামটির বাসিন্দারা। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে আলফাডাঙ্গা চৌরাস্তায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলে এই কর্মসূচি।
কর্মসূচি থেকে চরপাচুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা দাবি করেন, তাঁরা ফরিদপুরের বাইরে অন্য জেলার বাসিন্দা হতে চান না। তাঁরা আলমডাঙ্গা উপজেলাতেই থাকতে চান।
সম্প্রতি আলফাডাঙ্গার চরপাচুড়িয়া গ্রামের একটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে এক রায় দেওয়া হয়। ওই রায়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই রায়ের প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি পালন করতে থাকেন গ্রামের বাসিন্দাসহ উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তিরা।
আজকের মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করে কর্মসূচিতে অংশ নেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন, অধ্যাপক মো. মোরাদ হোসেন তালুকদার, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ কে এম আহাদুল হাসান আহাদ, সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম মোল্লা, ছলেমান মোল্লাসহ হাজারো মানুষ।
মানববন্ধন শেষে গ্রামবাসী আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। গ্রামবাসীর পক্ষে পাচুড়িয়া ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলী আফজাল লিখিত বক্তব্য পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমরা ফরিদপুরের পরিচয়ে আমৃত্যু থাকতে চাই। এ জেলার মাটিতে আমাদের জন্ম। এ মাটির নাম বাদ দেওয়া আমাদের কাছে বড় কষ্টের। আমাদের গ্রাম মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলাতে কেটে যাওয়ার খবর পেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছি, যার মামলা ১৮২৫/১৫।’
ইউপি সদস্য আলী আফজাল বলেন, ‘আমাদের গ্রামের লোকসংখ্যা ১০ হাজার ও ভোটার সংখ্যা ১৫৫১ জন। এই গ্রামের আয়তন আট কিলোমিটার। এই এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, কৃষকের সুবিধাসহ শতভাগ উন্নয়নের সুবিধা পাচ্ছি। আমরা ফরিদপুরবাসী হয়ে মাগুরা জেলায় যাব না। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো কাগজপত্র আসেনি। এলাকাবাসী অভিযোগ করলে বিষয়টি খুঁজে দেখা হবে।’

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর