মাকে কুপিয়ে হত্যা, হাসপাতালে ফেলে পালাল ছেলে
ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলীতে গতকাল বুধবার রাতে ছেলের হাতে এক মা খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর আগে গুরুতর আহতাবস্থায় মাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ছেলে।
কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানায়, ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন বিআরডিবির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার। দুদিন আগে জরুরি কাজে ঢাকায় যান নজরুল ইসলাম। বাসায় ছিলেন স্ত্রী ফাতেমা পারভীন ও ঢাকার ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া ছেলে আবদুস সাদি (২১)। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে সাদির ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তিনি দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। এতে ফাতেমা পারভীন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান সাদি। কিন্তু হাসপাতালে মাকে ফেলেই পালিয়ে যান তিনি।
এদিকে খবর পেয়ে রাতে হাসপাতালে ছুটে যান ফাতেমা পারভীনের স্বজনরা। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে ফাতেমা পারভীনের মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের হিমঘরে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী নজরুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় ছেলে আবদুস সাদিকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। কোতোয়ালি থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জানান, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় লাশটি ডায়াবেটিক সমিতির হিমঘর থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলেকে আটকের চেষ্টা চলছে।
নিহত ফাতেমা পারভীনের মেয়ে মারিয়া তামান্না জানান, তাঁর ভাই আবদুস সাদি বিভিন্ন সময় বাবা-মায়ের কাছে দামি মোবাইল, ল্যাপটপ, মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিল। তার এ দাবি পূরণ না করায় সে মাঝেমধ্যেই বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হতো।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর