গেস্ট হাউসে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ৯ জনকে জরিমানা
গোপালগঞ্জে একটি গেস্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৯ জনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং দুজনকে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় দক্ষিণ বাংলা নামের একটি গেস্ট হাউসে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিরুদ্ধ দেব রায় গেস্ট হাউসে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় পাঁচ নারী ও চার যুবককে হাতেনাতে ধরে আটক করেন। পরে তাদের মধ্যে একজনকে ৪০ হাজার, দুজনকে ৩০ হাজার, দুজনজনকে ২০ জাজার ও চারজনকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। গেস্ট হাউসের ম্যানেজার সিজান আহমেদকে এক মাস ও সরকারি কাজে অসহযোগিতা করার দায়ে পরিচ্ছন্নকর্মী মো. মাহমুদকে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ সময় গেস্ট হাউসের বিভিন্ন কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত। পরে অনুমোদন না থাকায় গেস্ট হাউসটি সিলগালা করে পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এস এম আনিসুর রহমানের তত্ত্বাবধায়নে দিয়েছে প্রশাসন।
ভবনটির মালিক ফ্রান্স প্রবাসী টুংগীপাড়া উপজেলার কুশলী গ্রামের আলী শেখ। তার কাছ থেকে প্রায় বছর খানেক আগে কোটালীপাড়া উপজেলার টিহাটি গ্রামের দুলাল ফকিরের ছেলে সবুজ ফকির ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে গেস্ট হাউসের ব্যবসা শুরু করেন।
ভবনের মালিক আলী শেখের ছোট ভাই রেজওয়ান বলেন, আমরা তাদের ডিড করে ভাড়া দিয়েছি। ওখানে যদি অসামাজিক বা বেআইনি কোনো কার্যক্রম হয় তার দায় তাদের। এর আগে একবার ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনার করে। তখন অনৈতিক কার্যকলাপের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এরপর আমরা ভাড়াটিয়াকে গেস্ট হাউস ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ করেছি।
গেস্ট হাউসের মালিক সবুজ ফকির বলেন, ভাই এখানে তো আর পর্যটন এলাকা না আবাসিক হোটেল বা গেস্ট হাউস ব্যবসায় এগুলো তো একটু হবেই না হলে এখানে আসবে কারা। চলবে কীভাবে?
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিরুদ্ধ দেব রায় বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় নয় জনকে আটক করে গেস্ট হাউসটি সিলগালা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ টাকার বিনিময়ে এখানে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের অভয়ারণ্য তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ ব্যবসা করে আসছিল। এর আগেও এখানে অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করা হয়। এখানে যে মাদকদ্রব্য সেবনের বিভিন্ন আলামত আমরা পেয়েছি এ বিষয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে জড়িতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলার করার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে সুপারিশ করা হবে।

মাসুদ পারভেজ, গোপালগঞ্জ