রাউধার লাশ তোলা হবে সোমবার, মায়ের আপত্তি!
রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের মডেল রাউধা আতিফের মরদেহ সোমবার কবর থেকে তোলা হতে পারে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য এই মরদেহ তোলা হবে। এ জন্য তিন সদস্যের নতুন মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে।
তবে রাউধার লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁর মা আমিনাথ মুহাররিমা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আসমাউল হককে মালদ্বীপ থেকে ফোন করে তিনি এই আপত্তি জানিয়েছেন। তবে তাঁর এই আপত্তি আমলে নেওয়া হচ্ছে না বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
আসমাউল হক বলেন, ‘শনিবার রাউধা হত্যা মামলার একমাত্র আসামি রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সিরাত পারভীন মাহমুদসহ তিনজনকে সিআইডি অফিসে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁরা এখনো বলছেন, রাউধা তাঁর কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আমরা তাঁদের বক্তব্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রাউধার রহস্যজনক মৃত্যুর পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) গঠিত তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রাউধার আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালতে হত্যা মামলা করেছেন তাঁর বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ। ফলে রাউধার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে রাউধার মা তাঁকে ফোন করেছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে আল্লাহর কাছে শান্তিতে আছে। তাঁর লাশ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হোক, এমনটি তিনি চান না।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসমাউল হক বলেন, ‘রাউধার মায়ের যুক্তি আমরা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। কারণ, তাঁর মেয়ের মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এড়াতেই দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করতেই হবে। স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকেন রাউধার মা। তাঁর সঙ্গে বিরোধের কারণে তিনি কবর থেকে মেয়ের লাশ তুলতে আপত্তি জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আমিরুল চৌধুরীকে প্রধান করে নতুন মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে রামেক কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন সিরাজগঞ্জের নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহবুব হাফিজ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাফিজুর রহমান। ময়নাতদন্ত করতে তাঁদের কাছে সিআইডির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তিন চিকিৎসক রাজি হলে এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে সোমবার লাশ উত্তোলনের পর তাঁদের দিয়েই রামেক মর্গে রাউধার লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হবে।
এর আগে গত ৩১ মার্চ রামেক মর্গে রাউধার লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ডের তিন সদস্যের দুজনই ছিলেন ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের শিক্ষক। ময়নাতদন্তের পরদিন তাঁরা পুলিশের কাছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাতে বলা হয়, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই প্রতিবেদন মানতে নারাজ রাউধার বাবা।
গত ২৯ মার্চ রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাউধা এ কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নীলনয়না রাউধা ছিলেন মালদ্বীপের একজন উঠতি মডেল। মাত্র ২১ বছরের রাউধার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি।

শ. ম সাজু, রাজশাহী