প্রধান শিক্ষককে হাতুড়িপেটা : আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।
মামলায় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মজিদ সরদারসহ ৫৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাতে আহত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় মামলাটি করেন। এতে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারপিটের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার পর রাজশাহীর পুঠিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে দুর্গাপুর থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চারিয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে শিক্ষকদের মারপিটের প্রতিবাদে ও আওয়ামী লীগ নেতা মজিদসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক সমিতি। আজ সকালে উপজেলা সদরে মানববন্ধন শেষে শিক্ষক নেতারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন।
রাজশাহী জেলা শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দুর্গাপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান সরকার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী, প্রচার সম্পাদক খ ম নাসিরুদ্দিন উইলিয়াম, দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান, কয়ামাজমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিল উদ্দিন, গোলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানসহ পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একাংশও শিক্ষক নেতাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে মানবন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মজিদ সরদার একের পর এক শিক্ষককে নানা অজুহাতে মারপিট করে চলেছেন। তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে কিশোরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান, হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান, দাওকান্দি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হককে মারপিট ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এর আগেও তিনি কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরো দুই শিক্ষককে মারপিট করেন।
সর্বশেষ ওই আওয়ামী লীগ নেতা চাঁদার দাবিতে মিথ্যা অজুহাতে কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে মারপিট করেন। মজিদ সরদারের এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। এ সময় অন্য আসামিসহ মজিদ সরদারের গ্রেপ্তারের দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধন থেকে মজিদ চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত উপস্থিত শিক্ষক নেতারা কালো ব্যাজ ধারণ ও আগামী শনিবার রাজশাহী নগরীর জিরো পয়েন্টে মানববন্ধনের ডাক দেন।
বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানবন্ধন শেষে ইউএনও আনোয়ার সাদাতের কাছে স্মারকলিপি দেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আলম জানান, ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
দুর্গাপুরের কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ তিন জনকে পিটিয়ে আহত করে আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল মজিদ সরদার ও তাঁর লোকজন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষও ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় আহত হন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন, সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) সাইফুল ইসলাম ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির ছেলে রবিউল ইসলাম।

শ. ম সাজু, রাজশাহী