প্রধানমন্ত্রীর প্রতীক্ষায় ফরিদপুরবাসী
২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ফরিদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল বুধবার বেলা ৩টায় জেলার সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে অনেক আশা নিয়ে বসে আছে পুরো ফরিদপুরবাসী। বহু প্রতিক্ষিত এই সফর নিয়ে অনেক উচ্ছ্বসিতও তারা।
জেলার বাসিন্দাদের আশা, ফরিদপুর বিভাগ, সিটি করপোরেশন, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এবং বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব অনেক কিছু নিয়েই এখন জেলার বাসিন্দারা আশায় বসে আছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরিদপুরে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১২টি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ কাজী নিশাত রসুল স্বাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রীর সফসূচি থেকে জানা যায়, ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পল্লী কবি জসীম উদদীন সংগ্রহশালা, মেরিন একাডেমিসহ ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও নতুন ১২টি নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে ২০টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন সেগুলো হচ্ছে-ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নতুন ভবন, পল্লী কবি জসীম উদদীন সংগ্রহশালা, ফরিদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলোজি, শিশু একাডেমি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল, সদর উপজেলাধীন চর কমলাপুর খেয়াঘাট হতে বিলমামুদপুর স্কুল সড়কে কুমার নদীর উপর ৯৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজ, ভাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা হতে ৫০ শয্যায় রূপান্তর, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, বিএসটিআই ভবন, ভাঙ্গা থানা ভবন, মধুখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদর উপজেলা হতে বাখুণ্ডা জিসি হয়ে রসুলপুর ভায়া চরনিখুরদি সড়ক, ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সিডাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিক, ৩৩-১১ কেভি হারুকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, যে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী সেগুলো হচ্ছে- কুমার নদ পুনঃখনন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আলফাডাঙ্গা থানা ভবন নির্মাণ, ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ হাসপাতাল, পুলিশ অফিসার্স মেস, সালথা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন, চন্দ্রপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, সরকারি সারদা সুন্দরি মহিলা কলেজ, ফরিদপুরের ছাত্রী নিবাস, মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত, ১৫০০ আসন বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস হল রুম নির্মাণ, সালথা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন প্রকল্প।
ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর বলেন, নেত্রীর কাছে ফরিদপুরবাসী অনেক প্রত্যাশা। কারণ তিনি অনেকদিন পর ফরিদপুরে আসছেন। নেত্রী তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা করে জেলাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ করবেন।
ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ইমতিয়াজ হাসান রুবেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রচুর উন্নয়ন সারাদেশব্যাপী করেছেন। আর আমাদের ফরিদপুরের জন্যই তিনি অনেক কাজ করেছেন। এখন আমাদের প্রাণের দাবি ফরিদপুর বিভাগের বাস্তবায়নের সঙ্গে ফরিদপুরকে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আর এর জন্য দ্বিতীয় পদ্মা সেতু খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিপুল ঘোষ জানান, নেত্রী তাঁর বক্তব্যর মাঝে ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা করবেন- এটাই ফরিদপুরবাসীর চাওয়া। ঢাকার ওপর চাপ কমাতে এর থেকে ভালো উদ্যোগ আর নেই।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর