ছিটমহলের উন্নয়নে বিশেষ অগ্রাধিকার ও কোটার পরামর্শ
ছিটমহলের বাসিন্দাদের উন্নয়নে বিশেষ অগ্রাধিকারসহ কোটা সুবিধা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান। ছিটমহলগুলোতে যেন কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয় সেজন্য প্রশাসনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার লালমনিরহাটের পাটগ্রামের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহল বাঁশকাটা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মিজানুর রহমান।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে বলে দেওয়া আছে অনগ্রসরতা যেখানে আছে তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যব্স্থা রাষ্ট্র নিতে পারবে। ৬৮ বছর ধরে রাষ্ট্রের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে আপনাকে (ছিটমহলের বাসিন্দাদের) দূরে সরিয়ে রাখা, এটাকে যদি কাটিয়ে তাদের (ছিটমহলের বাসিন্দাদের) উন্নয়নের স্রোতধারায় নিয়ে আসতে হয়- তবে অবশ্যই তাদের জন্য বিশেষ কিছু বরাদ্দ, বিশেষ কিছু সুবিধা, কিছু অগ্রাধিকার দেওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত। সে আলোকে আমার মনে হয়, যদি কোটা প্রয়োজন হয়- তবে তা কোটা বরাদ্দ হতে পারে।’
স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল পাস হওয়ার পর সম্প্রতি ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশি ছিটমহলের একটি বাড়িতে লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া এবং সেখানকার কয়েকটি ছিটমহলবাসীকে ভয়ভীতি দেখানো এবং হুমকি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সে দেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।
এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতায় এসব সমস্যা সমাধানে কী উদ্যোগ নেওয়া যায়, তারা (ভারতের মানবাধিকার কমিশন) ভারত সরকারের ওপর কী ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে পারে সে ব্যাপারগুলো আমরা অবশ্যই খতিয়ে দেখব।’
ছিটমহল পরিদর্শনের সময় মিজানুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন কমিশনের উপপরিচালক ইমামুদ্দিন কবির, অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকারকর্মী অধ্যাপক লায়ন ছুংগা, বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সভাপতি মঈনুল হক, পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম।

হায়দার আলী বাবু, লালমনিরহাট