খালেদা জিয়া বকশীবাজারে যাচ্ছেন কাল : আইনজীবী
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি দুই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি ও পূর্বের সাক্ষ্যগ্রহণ বাতিলসহ দুটি আবেদন করবেন বলে এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসানুর রহমান।
এনটিভি অনলাইনকে ব্যারিস্টার আহসানুর বলেন, আদালতের পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হবেন। আগামীকাল খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শুনানিকালে আদালতে দুটি বিষয়ে আবেদন করা হবে। একটি হলো গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর অনুপস্থিতিতে করা সাক্ষ্যগ্রহণ বাতিলের বিষয়ে আবেদন হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকায় সময়ের আবেদন করা হবে। অপরটি হলো নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করার আবেদন।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৩-এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে খালেদা জিয়ার দুই মামলার শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ রয়েছে।
এর আগে গত ২৫ মে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ বাতিলের জন্য করা আবেদন নাকচ করেন আদালত। একই সঙ্গে মামলা দুটির পরবর্তী শুনানির জন্য ১৮ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়।
রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে তাঁর আইনজীবীরা ছয় কার্যদিবসে তাঁর অনুপস্থিতিতে নেওয়া সাক্ষ্যগ্রহণ বাতিলের আবেদন করেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, ১ ডিসেম্বর, ৮ ডিসেম্বর, ১৭ ডিসেম্বর এবং এ বছরের ৭ ও ১৫ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ সময় আদালত তা নামঞ্জুর করে দেন।
গত ৫ মে শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৩৯-বি(২) অনুযায়ী আসামির উপস্থিতিতেই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হয়। যদি আসামি অনুপস্থিত থাকেন বা তাঁকে সময় দেওয়া হয়, তাহলে সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে সময় দেওয়া হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ অবৈধ।
অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আসামিপক্ষ যে আবেদন করেছে, তা কোনো ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। আসামিপক্ষ বারবার সময় আবেদন করেছে, আদালত তাঁর (খালেদা জিয়া) প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সময় দিয়েছেন এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম সচল রেখেছেন।
এ মামলায় আটজন সাক্ষী বারবার আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু তারা (আসামিপক্ষ) জেরা সম্পন্ন না করায় সাক্ষীরা বারবার আদালতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। মামলার কার্যক্রমকে ব্যাহত করতেই তারা বারবার সময় আবেদন করছে বলেও মন্তব্য করেন দুদক আইনজীবী।
২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুদক।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
অন্যদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় আরো একটি মামলা করে দুদক।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

জাকের হোসেন